আমাদের রোজকার জীবনে কত ঘটনাই ঘটে। যার কিছু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে, আর কিছু সমাজমাধ্যমের দুনিয়ায় আচমকাই ভাইরাল হয়ে যায়। তবে এবার একটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
২০২৭ সালের ২ আগস্ট আকাশে ঘটতে চলেছে এক বিরল ঘটনা। ওই দিন বিশ্বের কিছু অংশে দেখা যাবে শতাব্দীর অন্যতম দীর্ঘ পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। এই গ্রহণের সময় দিনের বেলাতেই কয়েক মিনিটের জন্য চারপাশ অন্ধকার হয়ে যাবে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এটি ১৯৯১ সালের পর স্থলভাগ থেকে দেখা সবচেয়ে দীর্ঘ পূর্ণ সূর্যগ্রহণগুলির একটি এবং ২১১৪ সালের আগে এর চেয়ে দীর্ঘ পূর্ণ সূর্যগ্রহণ আর দেখা যাবে না।
এই সূর্যগ্রহণে চাঁদ সম্পূর্ণভাবে সূর্যকে ঢেকে দেবে। ফলে নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ড পর্যন্ত সূর্যের আলো দেখা যাবে না। সাধারণত পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ২ থেকে ৩ মিনিট স্থায়ী হয়। তাই এত দীর্ঘ সময়ের গ্রহণ অত্যন্ত বিরল বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
এই বিরল দৃশ্য সবচেয়ে ভালভাবে দেখা যাবে উত্তর আফ্রিকা, দক্ষিণ ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অংশ থেকে। বিশেষ করে মিশরের লুক্সর শহরকে গ্রহণ দেখার অন্যতম সেরা স্থান হিসেবে ধরা হচ্ছে।
এছাড়া স্পেনের দক্ষিণাংশ, লিবিয়া, তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের কিছু এলাকা থেকেও পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।
অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে দাবি করছেন, এই গ্রহণের সময় নাকি 'পৃথিবীর অর্ধেক অংশ অন্ধকারে ডুবে যাবে'। বাস্তবে বিষয়টি তেমন নয়। পূর্ণ অন্ধকার থাকবে শুধু সেই সরু অঞ্চলে, যেখানে চাঁদের পূর্ণ ছায়া পড়বে। বিশ্বের অন্য অনেক জায়গায় আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে, আবার বহু দেশ থেকে গ্রহণ একেবারেই দেখা যাবে না।
ভারতের ক্ষেত্রে এই গ্রহণ পূর্ণভাবে দেখা যাবে না। দেশের বেশিরভাগ অংশ থেকে এটি দৃশ্যমান হবে না, আর কিছু পশ্চিমাঞ্চলে সীমিত আকারে আংশিক গ্রহণ দেখা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিজ্ঞানীরা আরও জানিয়েছেন, খালি চোখে সূর্যগ্রহণ দেখা বিপজ্জনক। এতে চোখের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। তাই গ্রহণ দেখতে হলে অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানের সোলার ইক্লিপস চশমা বা বিশেষ সোলার ফিল্টার ব্যবহার করতে হবে।
সবমিলিয়ে, ২০২৭ সালের ২ আগস্টের এই বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণ জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীদের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হতে চলেছে। কয়েক মিনিটের এই অন্ধকার প্রকৃতির এক অসাধারণ দৃশ্যের সাক্ষী হওয়ার বিরল সুযোগ এনে দেবে।
















