আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফের কলকাতা শহরে নির্মীয়মাণ আবাসনে শিশুর রহস্যমৃত্যু। উদ্ধার হল নিখোঁজ শিশুর রক্তাক্ত মৃতদেহ। এন্টালি থানা এলাকার এক নিখোঁজ তিন বছরের শিশুর দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। তবে ঘটনাটি হত্যা নাকি দুর্ঘটনা, তা খতিয়ে দেখছে কলকাতা পুলিশ।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ৪/৫১, কনভেন্ট লেনের বাসিন্দা রাজ কুমার রাজবংশী নামের এক ব্যক্তি তাঁর নাবালক পুত্র প্রীতম রাজবংশীর (৩) নামে এন্টালি থানায় গিয়ে নাবালক সন্তানের নিখোঁজ হওয়ার লিখিত অভিযোগ জানান। সেখান থেকেই শুরু হয় পুলিশের তদন্ত। এন্টালি থানার পুলিশ সেই নাবালকের খোঁজে শুরু করে একপ্রকার চিরুনি তল্লাশি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে চারটা নাগাদ প্রীতম তার মা কাজল কুমারীর সঙ্গে ওই ঠিকানায় অবস্থিত একটি নির্মীয়মাণ জি+৩ তলা ভবনের ছাদে শুকনো কাপড় আনতে যায়। কাজ শেষে নামার সময় মা শিশুটিকে নিচে নামতে বলেন। কিন্তু তিনি নিচে পৌঁছনোর পর ছেলেকে আর খুঁজে পাননি।
ঘটনার পরপরই আতঙ্কিত পরিবার বিষয়টি পুলিশকে জানালে, এন্টালি থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত একটি সাধারণ ডায়েরি (GD) নথিভুক্ত করা হয়। এরপর পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় আশপাশের এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি শুরু হয়।
তল্লাশি চলাকালীন ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোরে লিফটের জন্য তৈরি অংশের ভিতরে নিচের অংশ থেকে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পুলিশ উদ্ধার করে শিশুটিকে এরপর তৎক্ষণাৎ এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রাথমিক পরীক্ষায় শিশুটির মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশের অনুমান, উপর থেকে পড়ে যাওয়ার ফলেই এই আঘাত লেগে থাকতে পারে। তবে ঘটনার পিছনে কোনও ষড়যন্ত্র বা অপরাধমূলক যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। এবং প্রাথমিক তদন্তে কোনও ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত মেলেনি। শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই তবেই স্পষ্ট করে বলা যাবে মৃত্যুর পেছনে আসল কারণ কী।
তবে এদিনের এই হৃদয়বিদারক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এন্টালি কনভেন্ট লেন এলাকায় শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নির্মীয়মাণ ভবনে নিরাপত্তার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
