আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তর ২৪ পরগনার বেলঘরিয়ায় একটি আবাসিক ফ্ল্যাট থেকে প্রায় ৭০ কোটি টাকার জাল নোট উদ্ধার করে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে এক দম্পতি এবং এক নেপালি নাগরিকও রয়েছে। সোমবার এই অভিযান চালায় নেপাল পুলিশের গোয়েন্দা শাখা, যাদের সহায়তা করে রাজ্য পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কামারহাটি পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের শরৎপল্লির একটি বহুতল আবাসনে এই অভিযান চালানো হয়। ফ্ল্যাটটি ছিল দীপা ধর নামে এক স্থানীয় বাসিন্দার দখলে। তার স্বামী অরিন্দম ধর দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের হরিনাভির বাসিন্দা। এই দম্পতিই জাল নোট চক্রের মূল সন্দেহভাজন বলে মনে করছে তদন্তকারীরা। অভিযানে বিপুল পরিমাণ জাল নোটের পাশাপাশি ১২টি মোবাইল ফোন এবং একটি বিলাসবহুল গাড়িও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, ২০২৪ সালে ওই দম্পতি নেপাল সফর করেছিলেন। সেই সূত্র ধরেই তাঁদের একটি আন্তর্জাতিক জাল নোট পাচার চক্রের সঙ্গে যোগসূত্র থাকার সন্দেহ করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই চক্রটি সীমান্ত পেরিয়ে সক্রিয় একটি বড়সড় চোরাচালান নেটওয়ার্কের অংশ হতে পারে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জাল নোটের উৎস, পাচারের রুট এবং এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত অন্য সদস্যদের খোঁজ করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
জানা গেছে, বিলাসী জীবনযাপন নিয়ে আগে থেকেই সন্দেহ ছিল পড়শিদের। এদিকে আবাসনের বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ওই ফ্ল্যাটে অস্বাভাবিক আড়ম্বরপূর্ণ পার্টি হত। প্রতিবেশীদের মতে, ওই দম্পতির জীবনযাপন অনেকটাই বিলাসবহুল ছিল এবং প্রায়ই সেখানে বড় বড় পার্টির আয়োজন করা হত।
স্থানীয় বাসিন্দা সায়নদীপ সাহা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা শুনতাম ওরা খুব বড়লোক এবং প্রভাবশালী। মাঝেমধ্যেই বাড়িতে বড় পার্টি হত। এমনকি রাশিয়ান বেলি ড্যান্সারও আসতেন। মদ, গান-বাজনা—সব মিলিয়ে জমজমাট পরিবেশ থাকত।” আরেক প্রতিবেশী মৌমিতা বসুর কথায়, “আমরা বিশ্বাসই করতে পারছি না, এই ফ্ল্যাট থেকে এত বড় বেআইনি কাজ চলছিল।”
পুলিশের ধারণা, ওই বিলাসবহুল পার্টিগুলির আড়ালেই দীর্ঘদিন ধরে জাল নোট পাচারের এই চক্র সক্রিয় ছিল। তদন্তকারীরা এখন এই চক্রের আন্তর্জাতিক যোগসূত্র খতিয়ে দেখছেন।
