অনেকেই কর্মজীবনের শুরুতেই বিনিয়োগ শুরু করতে পারেন না। সংসারের দায়িত্ব, ঋণ বা আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক সময় ৪৫-৫০ বছর বয়সে এসে বিনিয়োগের কথা ভাবতে শুরু করেন। তবে দেরিতে শুরু করলেও সঠিক পরিকল্পনা থাকলে মিউচুয়াল ফান্ডে ভালো রিটার্ন পাওয়ার সুযোগ থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি একজন ৫০ বছর বয়সী বিনিয়োগকারী প্রতি মাসে ৪০,০০০ টাকা করে এসআইপি শুরু করেন, তাহলে একটি সুষম পোর্টফোলিও তৈরি করা সম্ভব।
2
11
SIP পদ্ধতিতে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করা হয়। এর ফলে বাজারের ওঠানামার প্রভাব কিছুটা কমে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদে গড় দামে ইউনিট কেনা সম্ভব হয়। বিশেষ করে যাদের অবসর পর্যন্ত সময় ১০-১৫ বছর রয়েছে, তাদের জন্য এটি একটি কার্যকর কৌশল হতে পারে।
3
11
বিশেষজ্ঞরা সাধারণত দেরিতে বিনিয়োগ শুরু করলে সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ ইক্যুইটিতে না গিয়ে একটি ব্যালান্সড পোর্টফোলিও রাখার পরামর্শ দেন। উদাহরণ হিসেবে ৪০,০০০ টাকার SIP এভাবে ভাগ করা যেতে পারে:
4
11
লার্জ-ক্যাপ ফান্ড – ১৫,০০০ টাকা: লার্জ-ক্যাপ কোম্পানিগুলো সাধারণত স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদে কম ঝুঁকিপূর্ণ। বাজারে বড় পতন হলেও এই ধরনের শেয়ার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে। তাই পোর্টফোলিওর বড় অংশ এখানে রাখা নিরাপদ বলে মনে করা হয়।
5
11
ফ্লেক্সি-ক্যাপ বা মাল্টি-ক্যাপ ফান্ড – ১০,০০০ টাকা: এই ধরনের ফান্ডে বড়, মাঝারি ও ছোট—সব ধরনের কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা হয়। ফলে বাজারের বিভিন্ন সুযোগ কাজে লাগানোর সুযোগ থাকে এবং রিটার্নের সম্ভাবনাও বাড়ে।
6
11
ব্যালান্সড বা হাইব্রিড ফান্ড – ১০,০০০ টাকা: হাইব্রিড ফান্ডে ইক্যুইটি ও ডেট—দুই ধরনের সম্পদে বিনিয়োগ করা হয়। এতে ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম থাকে এবং পোর্টফোলিওর স্থিতিশীলতা বাড়ে।
ধরা যাক, একজন বিনিয়োগকারী ৫০ বছর বয়সে শুরু করে পরবর্তী ১০-১২ বছর প্রতি মাসে ৪০,০০০ টাকা SIP করেন। যদি গড় বার্ষিক রিটার্ন ১০-১২% হয়, তাহলে অবসর সময় পর্যন্ত কয়েক কোটি টাকার একটি ফান্ড তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। যদিও বাজারের উপর নির্ভর করে প্রকৃত রিটার্ন কম-বেশি হতে পারে।
9
11
বিনিয়োগের সময় যে বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরি। ঝুঁকি সহনশীলতা বোঝা: বয়স বেশি হলে অতিরিক্ত ঝুঁকি নেওয়া ঠিক নয়। বিনিয়োগ নিয়মিত রাখা: বাজার কমলেও SIP বন্ধ করা উচিত নয়।
10
11
পোর্টফোলিও রিভিউ করা: বছরে অন্তত একবার বিনিয়োগ পর্যালোচনা করা দরকার।জরুরি তহবিল রাখা: সব টাকা বিনিয়োগ না করে আলাদা জরুরি ফান্ড রাখা জরুরি।
11
11
৫০ বছর বয়সে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ শুরু করা দেরি মনে হলেও তা একেবারেই অসম্ভব নয়। নিয়মিত SIP, সুষম সম্পদ বণ্টন এবং দীর্ঘমেয়াদি ধৈর্য—এই তিনটি বিষয় মেনে চললে অবসর জীবনের জন্য একটি শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব।