আজকাল ওয়েবডেস্ক: চিকিৎসাবিজ্ঞান, জনসচেতনতা, সিনেমা, সংস্কৃতি এবং মানবিকতার এক বিরল মেলবন্ধনের সাক্ষী থাকল শহর কলকাতা। এশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ইমিউনোলজি অ্যান্ড রিউমাটোলজি (AIIR) -র দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজন করা হয় একটি অনুষ্ঠান। সোমবার শহর সংলগ্ন নিউটাউনে অনুষ্ঠিত হয় এই বিশেষ অনুষ্ঠান। ‘Celebrating Life’ থিমে সাজানো এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য অটোইমিউন রোগ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং রোগীদের জীবনের লড়াই ও সাফল্যের গল্প সমাজের সামনে তুলে ধরা।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে। যেখানে উপস্থিত ছিলেন রামকৃষ্ণ মিশন শিল্পপীঠের অধ্যক্ষ স্বামী ধ্যেয়ানন্দ মহারাজ-সহ বিশিষ্ট চিকিৎসক ও রিউমাটোলজিস্টরা। AIIR-এর দুই কর্ণধার ডাঃ পার্থজিৎ দাস এবং ডাঃ অর্ঘ্য চট্টোপাধ্যায় প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও পরিষেবা সম্প্রসারণের কথা তুলে ধরেন। এদিনের অনুষ্ঠানে ‘Know Your Disease’ শীর্ষক বিশেষ বৈজ্ঞানিক পর্বে লুপাস-সহ বিভিন্ন অটোইমিউন রোগ, গর্ভাবস্থা, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যা এবং ভ্যাকসিন নিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য সহজ ভাষায় আলোচনা করেন চিকিৎসকরা। এছাড়াও এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের পরিচালক অতনু ঘোষ, অভিনেত্রী ডলি বসু ও দেবলীনা দত্ত-সহ ব্যক্তিত্বরা। সিনেমার মাধ্যমে কীভাবে বিরল রোগ নিয়ে সচেতনতা তৈরি করা যায়, সেই বিষয়েই হয় আলোচনা। অটোইমিউন রোগের সঙ্গে লড়াই করেও সফলভাবে মাতৃত্বকে গ্রহণ করা মায়েদের বিশেষ সম্মান জানানো হয়। সঙ্গীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও নাটকের মাধ্যমে রোগীদের জীবনের সংগ্রাম ও জয়ের গল্প তুলে ধরা হয় সাংস্কৃতিক পর্বে। এদিনের এই অনুষ্ঠানে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করবেন AIIR-এরই এক রোগী।

অনুষ্ঠানে চিকিৎসক অর্ঘ্য চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের এই প্রয়াস, একই ছাদের তলায় অটোইমিউন ডিজিজ-এর সব রকম চিকিৎসা, যা পূর্ব ভারতে এই প্রথম এবং সারাদেশে এই ধরনের ইনস্টিটিউট খুব কমই রয়েছে। এই চিকিৎসা আমাদের শুধু ডাক্তারির মধ্যে দিয়ে নয়, ডাক্তারির বাইরে বেরিয়ে যাতে জীবনটাকে আনন্দ উপভোগ করতে পারে সেই সকল মানুষ তারই চেষ্টা। কারণ দিনের শেষে সুস্থভাবে বাঁচা মানে শুধু অসুখ থেকে মুক্তি নয়, দরকার তার মন ঠিক থাকা, পরিবারকে ঠিক রাখা। তাই আমাদের আজকের এই অনুষ্ঠান AIIR-এর সমস্ত পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এই অনুষ্ঠান মূলত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মূলত সমস্ত বাধা-বিপত্তির মধ্যেও যাতে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে পারে এটাই আমাদের প্রধান চেষ্টা। কারণ মানসিকভাবে সুস্থ না হলে চিকিৎসা অসম্পূর্ণ থাকে। আর সেই বার্তার জন্যই আজকের এই অনুষ্ঠান আয়োজন।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত AIIR এর সদস্য ডায়েটিশিয়ান অগ্নিমিত্রা মুখোপাধ্যায় বলেন, “অটোইমিউন ডিজিজ চিকিৎসার জন্য খাবারের বিষয়টা বেশি করে গুরুত্ব দিতে হবে। খাবারের ক্ষেত্রে গ্রিন ভেজিটেবল বা শাকসবজি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট জাতীয় খাবার বেশি করে খেতে হবে। তাহলে রোগীর সিমটম প্রিভেন্ট করতে অনেক বেশি সুবিধা হবে। কারণ সে দিকটা যদি দুর্বল থাকে তাহলে শরীরের ইমিউনিটি সিস্টেম দুর্বল হয়ে যাবে এবং চিকিৎসা ক্ষেত্রে অনেক বেশি সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে। রোগ নিরাময় অনেক জটিলতা তৈরি হবে। তাছাড়াও সুগার ছাড়া খাবার যদি খাওয়া যায় সেটা খুবই ভালো এই সকল ক্ষেত্রে। এছাড়াও খাবারের মধ্যে থেকে গ্লুটেন জাতীয় খাবার বাদ দিয়ে যদি খাওয়া যায় সেটা আরো উপকারী এই সকল রোগীদের ক্ষেত্রে”















