আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক প্রচার সভায় এসে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিজেপি-র সরকার গঠন হওয়ার আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ জমায়েতের আয়োজন করেছিল বিজেপি-র কর্মচারী সংগঠন। এবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের কাজ।

 

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের প্রভাত শাখা তাদের কার্যক্রম শুরু করল। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, এই প্রথম ক্যাম্পাসের ভিতরে এমন কোনও কর্মসূচি পালন করল আরএসএস। মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে যোগাসন এবং বিভিন্ন শারীরিক কসরতে যোগ দেন আরএসএস-এর প্রভাত শাখার কর্মকর্তারা। তাঁরা সকলেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী।

 

কর্মচারী সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক পলাশ মাজি জানান, এই শাখার এখনও নাম করণ হয়নি। মনে করা হচ্ছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শাখার নামকরণ করা হতে পারে ঋষি অরবিন্দের নামানুসারে। যাদবপুর জন্ম থেকেই ছিল জাতীয়তাবাদী। বামেদের আমলে পরিস্থিতি অন্য ছিল। দেশবিরোধী স্লোগান ছিল। স্বপ্ন ছিল এখান থেকে বেরিয়ে আসার। পালাবদলের পর এই শাখার নাম হয়নি। আরএসএসের উচ্চতর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। যাদবপুরের কয়েকজন কর্মীরা ছিলেন। সবার অনুমতি নিয়েই করেছি। প্রশাসনের অনুমতি ছিল না। 

 

অন্যদিকে যাদবপুরের প্রাক্তন উপাচার্য বুদ্ধদেব সাউ বলেন, আমরা বিজয় উৎসব করিনি। সেবক সংঘের প্রভাত শাখা কোনও অনুমতি নেয়নি। যা হবে ন্যায়ভাবে হবে। নিরাপত্তা চাইলে সরকার দেবে। অন্যায় করলে প্রতিবাদ হবে।  

 

রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সংগঠন পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী পরিষদ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে প্রভাত শাখার কর্মসূচি সেই কর্মকাণ্ডে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে বলেই দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ।

 

ইতিমধ্যেই গোটা ক্যাম্পাসে বিজেপি সমর্থকদের কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর থেকে ক্যাম্পাসের ভিতরে রামনবমী উদ্‌যাপনও চলছে। আর তা নিয়ে চলছে পড়ুয়াদের মধ্যে মতান্তরও। সোমবার ক্যাম্পাসের ভিতরে একটি মিছিলও হয় বিজেপি সমর্থিত কর্মী সংগঠনের তরফে।