আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ চিংড়িহাটা মোড়ে অরেঞ্জ লাইনের মেট্রোর তিনটি পিয়ার নির্মাণের প্রস্তুতি শুরু হতেই ইএম বাইপাসে যান চলাচলে বড়সড় বদল আনল কলকাতা পুলিশের বেলেঘাটা ট্রাফিক গার্ড। উল্টোডাঙার দিকে যাওয়া যানবাহনের গতি ও চাপ সামলাতে বুধবার থেকে শুরু হয়েছে বিশেষ ট্রায়াল ডাইভারশন। 

কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর, মেট্রোপলিটন এলাকার সার্ভিস রোড পার হওয়ার পর ‘‌ক্যাপ্টেন ভেড়ি’‌–এর সমান্তরালে একটি নতুন রাস্তা ইতিমধ্যেই নির্মাণ করা হয়েছে। এই নতুন রাস্তাটি ব্যবহারের মাধ্যমে যানবাহনের চলাচলের পথ ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাড়িগুলি ওই নবনির্মিত রাস্তায় উঠে ইএম বাইপাসের একটি অংশ এড়িয়ে যাবে এবং ক্যানাল সাউথ রোডের আগে আবার মূল ক্যারেজওয়েতে ফিরে আসবে। 

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আপাতত শুধু ভারী যানবাহন–যেমন বাস, ডাম্পার ও মিনিবাস এই নতুন পথে যাবে। যাতে যান চালকরা এবং ট্রাফিক কর্মীরা ধীরে ধীরে এই পরিবর্তিত ব্যবস্থার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারেন।

 বুধবার থেকে এই ট্রায়াল শুরু হয়েছে এবং তা টানা সাত দিন চলবে। তবে পর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এই সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়েও ভাবনাচিন্তা করছে কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। 

এই মুহূর্তে যানবাহন ঘুরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা দিনে দু’বার, অর্থাৎ সকাল ৮টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট এবং বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে যানবাহনের চাপের উপর নির্ভর করে এই সময়সীমা কিছুটা এদিক–ওদিক হতে পারে। যদিও মেট্রো পিয়ার নির্মাণের কাজ মূলত রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে করার কথা, তবুও ট্রাফিক পুলিশকে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতেই পিক আওয়ারে এই ট্রায়াল ডাইভারশন চালু করা হয়েছে।

 
উল্লেখ্য, এর আগেও চিংড়িহাটা মোড়ে মেট্রো পিয়ার নির্মাণ নিয়ে একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। মেট্রো কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছিল যে তারা প্রয়োজনীয় ট্রাফিক ব্লক পাচ্ছে না, অন্যদিকে রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশ নানা সমস্যার কথা উল্লেখ করে ট্রাফিক ব্লক দিতে অস্বীকার করেছিল। শেষ পর্যন্ত গত ২৩ ডিসেম্বর কলকাতা হাইকোর্ট চিংড়িহাটায় অরেঞ্জ লাইন মেট্রো প্রকল্পের স্থগিত অংশের কাজ শেষ করার জন্য ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সময়সীমা বেঁধে দেয়। পাশাপাশি, মেট্রো পিয়ার বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় টানা দু’টি সপ্তাহান্তের রাতের ট্রাফিক ব্লকেজের তারিখ রাজ্য সরকার ও ট্রাফিক পুলিশকে যৌথভাবে নির্ধারণ করার নির্দেশও দেয় আদালত। আর তারপর থেকেই শুরু হয় কাজের সক্রিয়তা। এখন দেখার, এই ট্রায়াল ডাইভারশন কতটা সফল হয় এবং চিংড়িহাটায় মেট্রো নির্মাণের বহু প্রতীক্ষিত কাজ শেষ পর্যন্ত কত দ্রুত গতি পায়।