আজকাল ওয়েবডেস্ক: ১২ দিনে পড়েছে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানী সঙ্কট দেখা দিচ্ছে। প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতেও। গত ৭ মার্চ দেশ জুড়ে বেড়েছিল রান্না এবং বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম। কেন্দ্র সেই সময় জানিয়েছিল অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৩০ মার্কিন ডলারের নীচে থাকলে পেট্রল বা ডিজেলের দাম বৃদ্ধি করা হবে না। কিন্তু এলপিজি নিয়ে চিন্তা রয়েই গিয়েছে। এরই মাঝে দাম বাড়ল অটোর গ্যাসের। বুধবার, ১১ মার্চ কলকাতা অটোর এলপিজির দাম বেড়েছে পাঁচ টাকা। এর আগে কলকাতায় লিটার প্রতি অটোর গ্যাসের দাম ছিল ৫৭ টাকা ৬৮ পয়সা। বুধবার থেকে সেই দাম হয়েছে ৬২ টাকা ৬৮ পয়সা। এই দাম বৃদ্ধির ফলে ভাড়া বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

এদিন সকাল থেকেই বিভিন্ন পাম্পে লাইন পড়েছিল অটোতে গ্যাস ভরার জন্য। লাইনে দাঁড়িয়ে দাম বৃদ্ধির খবর শুনে সকলে বিপারে পড়েন। পাম্প কর্তপক্ষ জানিয়েছে, পুরনো দামেই গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছিল। কিন্তু আচমকা কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকা আসায় দাম বৃদ্ধি করতে হয়েছে। অনেকের আশঙ্কা, এই দাম বৃদ্ধিপর ফলে বিভিন্ন রুটে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়তে পারে। 

অন্যদিকে এলপিজির আকাল নিয়ে কেন্দ্রকে তোপ দেগেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তাঁর দাবি, কেন্দ্রের ভুল সিদ্ধান্তে ফলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আরও আগে থেকে বোঝা উচিত ছিল। এলপিজির আকালের জন্য কেন্দ্রের দায়সারা মনোভাবকে দায়ী করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সঙ্কট মোকাবিলায় নবান্নে বৈঠক ডেকেছেন মমতা। 

রান্নার গ্যাসের সঙ্কট মোকাবিলায় হয় অত্যাবশ্যক পণ্য বিক্রি আইনের জরুরি ধারা প্রয়োগ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ১৯৫৫ সালের ওই আইনে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নির্ধারিত মাত্রার অতিরিক্ত পরিমাণে মজুত, বিক্রি এবং ব্যবহার নিষিদ্ধ। ‌এই আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, উৎপাদন ও জোগানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বিপণন। কেন্দ্র ইতিমধ্যেই এলপিজির কালোবাজারি রুখতে এবং সিলিন্ডারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এলপিজি বুকিংয়ের সময়কাল ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করেছে। কেন্দ্র জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের কারণ, যাঁরা ৫৫ দিনের মধ্যে এলপিজি সিলিন্ডার বুক করেছিলেন, তাঁরা যুদ্ধের আবহে ১৫ দিনের মধ্যে গ্যাস বুক করা শুরু করেছিলেন।