নিষিদ্ধ ছবির প্রতি কেন মানুষের এত আকর্ষণ? গবেষণায় মিলল নতুন উত্তর
নিজস্ব সংবাদদাতা
১১ মার্চ ২০২৬ ১৫ : ০৯
শেয়ার করুন
1
7
ডিজিটাল যুগে পর্নোগ্রাফি এখন হাতের মুঠোয়। অনেকের কাছে এটি যেন বিনোদন বা যৌন চাহিদা মেটানোর সহজ উপায়। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—পর্ন কি সত্যিই বাস্তব সম্পর্কের বিকল্প হতে পারে? সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, বিষয়টি এতটা সহজ নয়। বরং দীর্ঘমেয়াদে এটি সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
2
7
গবেষক বেয়াটা বোথের নেতৃত্বে করা এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত পর্ন দেখেন তাদের মধ্যে মাত্র ৫.৯৪ শতাংশ মানুষ বলেছেন যে তারা সঙ্গীর সঙ্গে যৌন অসন্তুষ্টির কারণে পর্ন দেখেন। অর্থাৎ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পর্ন দেখার কারণ সঙ্গী “যথেষ্ট নয়” এই ধারণা নয়। গবেষণা অনুযায়ী, পর্ন দেখার সবচেয়ে বড় কারণ হলো যৌন উত্তেজনা বা আনন্দ লাভ। যৌন আকাঙ্ক্ষা মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। অনেক সময় সম্পর্কের মধ্যে যৌন চাহিদার তারতম্য থাকলে বা কেউ একা থাকলে পর্নকে সহজ সমাধান হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু সমস্যা হলো, পর্ন মূলত মানুষের উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য তৈরি করা হয়—এতে দর্শকের মানসিক স্বাস্থ্য বা সম্পর্কের সুস্থতার কথা বিবেচনা করা হয় না।
3
7
বিশ্বখ্যাত সম্পর্ক গবেষক জন গটম্যান এবং জুলি গটম্যান সতর্ক করে বলেছেন, নিয়মিত পর্ন দেখলে মানুষের মস্তিষ্কে এমন এক ধরনের অভ্যাস তৈরি হয় যেখানে স্বাভাবিক যৌন উত্তেজনা আর যথেষ্ট মনে হয় না। ফলে বাস্তব যৌন সম্পর্ক কম আকর্ষণীয় হয়ে পড়তে পারে এবং দম্পতিদের মধ্যে যৌন সম্পর্কও কমে যেতে পারে। এর ফল হিসেবে সম্পর্কের সন্তুষ্টি কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
4
7
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অনেকেই পর্ন দেখেন যৌনতা সম্পর্কে জানার জন্য। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি। একটি সমীক্ষা বলছে, প্রায় ৪৫ শতাংশ কিশোর-কিশোরী আংশিকভাবে যৌন শিক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যে পর্ন দেখে। ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ মনে করেন, যৌনতা শেখার ক্ষেত্রে পর্নই সবচেয়ে “সহায়ক” উৎস।
5
7
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি অত্যন্ত সমস্যাজনক। কারণ পর্নে দেখানো সম্পর্ক, আচরণ বা যৌনতা বাস্তব জীবনের সঙ্গে অনেকটাই অসঙ্গত। ফলে তরুণদের মধ্যে অবাস্তব প্রত্যাশা তৈরি হতে পারে এবং কখনও কখনও সম্মতি বা নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপেক্ষিত হয়। গবেষণায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ উঠে এসেছে—মানসিক চাপ কমানো বা দুঃখ থেকে সাময়িক পালানো। অনেকেই একাকীত্ব, উদ্বেগ বা হতাশা থেকে মুক্তি পেতে পর্নের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
6
7
মনোবিজ্ঞানী গ্যারি ব্রুকস বলেন, “যত বেশি কেউ পর্নের উপর নির্ভর করে, তত বেশি সে একাকীত্ব অনুভব করতে পারে।” কারণ বাস্তবে কাছের মানুষদের সঙ্গে কথা বলার বদলে অনেকেই এই অভ্যাস লুকিয়ে রাখতে চান, যা আরও বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি বাড়ায়। অনেকের কাছে পর্ন দেখার আরেকটি কারণ হলো বোরডম বা একঘেয়েমি দূর করা। ডিজিটাল দুনিয়ায় যেখানে বিনোদনের অসংখ্য মাধ্যম রয়েছে, সেখানে পর্নও অনেকের কাছে সহজ বিনোদন। তবে গবেষকদের মতে, এটি আসলে সমস্যার সমাধান করে না। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একই ধরনের কনটেন্ট আর আগের মতো উত্তেজনা দেয় না, ফলে মানুষ আরও নতুন বা চরম ধরনের কনটেন্টের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে।
7
7
গবেষণা বলছে, অনেকেই ছোটবেলাতেই পর্নের সংস্পর্শে আসে। অনেক ক্ষেত্রে ১৩ বছর বয়সের আগেই প্রথমবার পর্ন দেখার অভিজ্ঞতা হয়। এত অল্প বয়সে শুরু হওয়া অভ্যাস পরবর্তীতে ছাড়া কঠিন হয়ে পড়ে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাউকে লজ্জা বা অপমান দিয়ে এই অভ্যাস থেকে সরানো সম্ভব নয়। বরং সহানুভূতি ও ধৈর্যই পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।