আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে হাইভোল্টেজ ভবানীপুরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শুধু দাঁড়ানোই নয়, ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে তৃণমূল সুপ্রিমোকে হারিয়ে ভবানীপুরের বিধায়ক এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন তিনি।

আর নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর এদিন সেই ভবানীপুরেই জনসভা করলেন শুভেন্দু। এদিন ক্যামাক স্ট্রিটে ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে আয়োজিত জনসভা থেকে তিনি বলেন, ভবানীপুরের মানুষের যে ভালবাসা ও সমর্থন তিনি পেয়েছেন, সেই ‘ঋণ শোধ’ করাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

সভা থেকে তিনি বলেন, ‘আমাকে জিতিয়ে আপনারা যে আস্থা দেখিয়েছেন, সেই ঋণ আমি কাজের মাধ্যমে শোধ করব। ভবানীপুরের প্রতিটি মানুষের সমস্যা সমাধানে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আর দু’-তিন সপ্তাহ সময় দিন, ধাপে ধাপে সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হবে।’

ভবানীপুর কেন্দ্রের উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপের কথাও ঘোষণা করেন তিনি। জানান, খুব শীঘ্রই একটি ডেডিকেটেড ফোন নম্বর চালু করা হবে, যেখানে ফোন করলেই এলাকার বাসিন্দারা তাঁদের সমস্যার দ্রুত সমাধান পাবেন।

পাশাপাশি বিধায়ক অফিস চালু করে সেখানে নির্দিষ্ট প্রতিনিধি রাখা হবে বলেও জানান তিনি। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, ‘গত ১৫ বছরে মানুষ বিধায়কের কাজ দেখেননি। এবার ভবানীপুরবাসী বুঝতে পারবেন, একজন বিধায়ক কীভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ায়।’

এদিন তিনি আরও বলেন, ভবানীপুরে আর কোনও ভয়ের পরিবেশ থাকবে না। তোলাবাজি, কাটমানি ও গুন্ডাবাজির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাঁর কথায়, ‘ভয় আউট, ভরসা ইন এই বার্তাই ভবানীপুরের জন্য।’

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, উন্নয়ন ও সুশাসনের পথেই এগোবে ভবানীপুর। ভোটের ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ভবানীপুরের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ তাঁকে সমর্থন করেছেন।

বাঙালি, গুজরাটি, মারোয়ারি, শিখ, ওড়িয়া-সহ সব সম্প্রদায়ের মানুষের ভোটেই তিনি জয়ী হয়েছেন বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়, ‘এই ভালবাসা আমাকে আপনাদেরই লোক করে দিয়েছে। আপনাদের প্রত্যাশা পূরণ করেই এই ঋণ শোধ করব।’

এদিন এলাকার পার্কিং সমস্যা, ড্রেনেজ, পার্ক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা-সহ নাগরিক পরিষেবার উন্নতিতে অ্যাডভাইজরি কমিটি গঠনের কথাও ঘোষণা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।