আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম সোমবার এক লাফে অনেকটা বেড়ে গেছে। পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে তৈরি হওয়া ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম এখন ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের মাইলফলক ছোঁয়ার দোরগোড়ায়। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। আজকের লেনদেনে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ইন্ট্রা-ডে ট্রেডিংয়ে ৭ শতাংশের বেশি বেড়ে ৯৬.৮৭ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, মার্কিন তেলের মানদণ্ড ডব্লিউটিআই (WTI) ক্রুড প্রায় ৯ শতাংশ লাফিয়ে প্রতি ব্যারেল ৯১.২০ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে।

এই বাজার অস্থিরতার প্রধান কারণ ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সংঘাত। সম্প্রতি ইরান ঘোষণা করেছে যে তারা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ 'হরমুজ প্রণালী'র ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করছে। তেহরানের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে যে, এই রুটটি কার্যত আবারও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, জলপথ অবরোধ করার কোনও  প্রচেষ্টার কাছে আমেরিকা নতি স্বীকার করবে না। অন্যদিকে, ইরানি কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন যে ওয়াশিংটন যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে তাদের বন্দরগুলোতে অবরোধ বজায় রেখেছে।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় যখন মোজতবা খামেনেই জানান যে ইরানের নৌবাহিনী যেকোনও হুমকির কড়া জবাব দিতে প্রস্তুত। সম্প্রতি মার্কিন কর্তৃপক্ষ একটি ইরানি কার্গো জাহাজ আটক করায় দুই দেশের মধ্যে থাকা যুদ্ধবিরতি এখন ভেস্তে যাওয়ার মুখে। বিশ্ববাজারের এই অস্থিরতার আঁচ পড়েছে ভারতেও। সোমবার ভারতের মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ (MCX)-এ অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ভারতীয় শেয়ার বাজারেও অস্থিরতা দেখা গেছে; সকালে ভালো শুরু করলেও দিন শেষে বিএসই সেনসেক্স এবং নিফটি ৫০ পতনের মুখ দেখেছে।

তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা থাকলেও অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রভাব ছিল তুলনামূলক স্থিতিশীল। এশিয়ার নিক্কেই, হ্যাং সেং এবং কোস্পি সূচক সামান্য ইতিবাচক অবস্থানে লেনদেন করেছে। এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ওয়াল স্ট্রিটে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এবং নাসডাক সূচকও ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি নিয়ে দিন শেষ করেছিল। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, তেলের বাজার এখন পুরোপুরি ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। যদি পশ্চিম এশিয়ার এই উত্তেজনা দ্রুত প্রশমিত না হয়, তবে তেলের দাম খুব শীঘ্রই ১০০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে যেতে পারে।