আজকাল ওয়েবডেস্ক: ঘরের মধ্যে বহু জিনিস আমরা অবহেলাতে ফেলে রাখি। তবে অনেক সেই অবহেলার বস্তুটি হয়ে ওঠে বিরাট মূল্যবান।


রোমানিয়াতে বাস করতেন এক মহিলা। তাঁর বাড়িতে একটি ৩.৫ কেজির পাথর ছিল। সেটিকে তিনি অবহেলার নজরে দেখতেন। তাই তিনি সেটিকে দরজার নিচে বন্ধ করার একটি বস্তু হিসেবে ব্যবহার করতেন। তবে একটা সময় তিনি এর দাম জানতে পারলেন। সেখানে তিনি দেখলেন এই ফেলে দেওয়া পাথরটির দাম ১.১ মিলিয়ন ডলার।


পাথরটির রং ছিল লাল। তাই মহিলা একে বিশেষ গুরুত্ব দেননি। তবে এটিকে যখন বিচার করা হয় তখন দেখা গেল এটি একটি রুবি পাথর। এই ধরণের পাথর ৩৮ থেকে ৭০ মিলিয়ন বছর আগের। এই পাথর বর্তমানে পাওয়া যায় না। তার উপর এই পাথরটি যে ওজনের ছিল সেখান থেকে এটির গুরুত্ব আরও বেশি হয়ে যায়। 

 


রোমানিয়াতে বেশ কয়েকটি রুবির খনি রয়েছে। সেখান থেকেই হয়তো এই রুবিটি এই মহিলার বাড়িতে কোনওভাবে এসেছিল। যদি চোর বা ডাকাতরা জানতে পারত তাহলে তারা এটিকে বহু আগেই চুরি করে নিত। মজার কথা হল এই মহিলার বাড়িতে বেশ কয়েকবার চুরি হয়েছে। তবে চোরেরা এই পাথরটিকে লাথি মেরেই চলে গিয়েছে। 

 


তবে নিজের বাড়িতে পাওয়া পাথর অতি দামী এটা জানার পর মহিলা কিন্তু সেটিকে বিক্রি করেননি। তিনি সেটিকে রোমানিয়া সরকারের হাতে তুলে দিয়েছেন। সেখান থেকে এটি রোমানিয়ার জাদুঘরে চলে গিয়েছে। এই পাথরের দামের তুলনায় এটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিচার করেই এটিকে জাদুঘরে রাখার সিদ্ধান্ত নিল রোমানিয়া সরকার।

 


গবেষকরা মনে করছেন এই পাথরটি বহু প্রাচীন। এর সঠিক দাম অনুমান করা কঠিন। এটিকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে মহিলাকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে রোমানিয়া সরকার। তারা মনে করছে এই ধরণের পাথর বাড়ি থেকে মেলার পরও যেভাবে এই মহিলা একেবারে নির্লোভের মতো আচরণ করেছেন সেটা সকলের মধ্যে থাকে না। তাই তাকে পুরষ্কার দেওয়া উচিত।