আজকাল ওয়েবডেস্ক:  বিখ্যাত শিল্পী  লিওনার্দো দা ভিঞ্চি তাঁর শিল্পকর্মের মাধ্যমে শুধু নন্দনতত্ত্ব নয়, আধুনিক বিজ্ঞান, ও সৃজনশীলতার জগতেও গভীর প্রভাব ফেলেছেন। কিন্তু অবাক করার মতো তথ্য হল—তাঁর অমর সৃষ্টি মোনালিসাতে হয়তো লুকিয়ে রয়েছে এমন এক রোগের চিহ্ন, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্বীকৃতি পেয়েছে তারও তিন শতাব্দী পরে।


‘মোনালিসা’, যাকে ‘লা জিওকোন্ডা’ বা ‘লা জোকোন্দ’ নামেও ডাকা হয়, সেই ছবির মডেল ছিলেন লিসা। গবেষণা বলছে, এই প্রতিকৃতিতে এমন দুটি শারীরিক লক্ষণ স্পষ্টভাবে দেখা যায়, যা বংশগত কোলেস্টেরলজনিত রোগের ইঙ্গিত দিতে পারে।


প্রথম লক্ষণটি হল চোখের পাতার ভেতরের কোণে হলদেটে দাগ, যাকে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘জ্যানথেলাজমা’ বলা হয়। দ্বিতীয়টি হল ডান হাতের পেছনে একটি ছোট ফোলা অংশ, যা ‘জ্যানথোমা’ বা লিপোমা হিসেবে পরিচিত। এই দুটি লক্ষণই শরীরে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল জমে থাকার সাধারণ চিহ্ন।


২০০৮ সালে একটি জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে এই বিষয়টি বিশদে ব্যাখ্যা করা হয়। নরওয়ের ওসলো শহরের রিকশস্পিটালেট হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, ‘মোনালিসা’ সম্ভবত ইতিহাসে প্রথম এমন ভিজ্যুয়াল প্রমাণ, যেখানে এই রোগের উপস্থিতি ধরা পড়েছে—যা চিকিৎসাবিজ্ঞান আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায় ১৮৫২ সালে।


গবেষণা আরও বলছে, ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী একজন মহিলার শরীরে এই ধরনের লক্ষণ থাকা একেবারেই কাকতালীয় নয়। এটি একটি জেনেটিক রোগ, যা অল্প বয়সেই প্রকাশ পায় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। জানা যায়। এই কারনেই মোনালিসা মাত্র ৩৭ বছর বয়সে মারা যান। যদিও মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রোগ থাকলে অল্প বয়সে মৃত্যুর সম্ভাবনা বেড়ে যায়।


আজকের দিনে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে ‘স্ট্যাটিন’ নামের ওষুধ ব্যবহার করা হয়, যা ২০ শতাব্দীর আগে ছিল না। ১৯৩৭ সালে চিকিৎসক মুলার প্রথম কোলেস্টেরল ও হৃদরোগের সম্পর্ক তুলে ধরেন। পরে ১৯৭১ সালে জাপানি বিজ্ঞানী অকিরা এনডো গবেষণার মাধ্যমে স্ট্যাটিন জাতীয় ওষুধের পথপ্রদর্শক ‘মেভাস্ট্যাটিন’-এর আবিষ্কার হয়।

 

&t=125s
সব মিলিয়ে বলা যায়, ভিঞ্চি হয়তো অজান্তেই তাঁর শিল্পকর্মের মাধ্যমে এমন এক চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক সত্য তুলে ধরেছিলেন, যা বিশ্বের সামনে স্পষ্টভাবে আসতে সময় লেগেছে আরও চার শতাব্দী। ‘মোনালিসা’ তাই শুধু শিল্পের নয়, বিজ্ঞানের ইতিহাসেও এক অনন্য দলিল।