আজকাল ওয়েবডেস্ক: সম্প্রতি ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘটিয়ে পাকিস্তান নিজেকে ‘শান্তিপ্রতিষ্ঠাতা’ হিসেবে তুলে ধরেছে। এদিকে গল্পের ছক কষা হয়েছিল হোয়াইট হাউসেই? সূত্র অনুযায়ী, ইসলামাবাদ নিজের ইচ্ছায় নয়, বরং আমেরিকার চাপে পড়েই তেহরানের সঙ্গে 'মধ্যস্থতা' করতে বাধ্য হয়েছিল। 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্র অনুযায়ী, মার্কিন প্রশাসন চাইছিল কোনওভাবে ইরানকে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি করাতে, যাতে জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ আবার খুলে যায়। একটি মুসলিম প্রধান দেশ, পাশাপাশি প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে ইরানের কাছে প্রস্তাবটি বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য পাকিস্তানকেই সবচেয়ে ‘উপযোগী’ মনে করেছিল ওয়াশিংটন।

বাইরে ট্রাম্প ইরানকে ‘ধুলায় মিশিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিলেও, তেলের আকাশছোঁয়া দাম এবং ইরানের শক্ত প্রতিরোধ তাঁকে তলে তলে চিন্তায় ফেলেছিল। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির একদিকে ট্রাম্প ও জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন, অন্যদিকে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির কাছে আমেরিকার ১৫ দফার প্রস্তাব পৌঁছে দিচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার রাতে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় দুই পক্ষ।

এই যুদ্ধবিরতিকে পাকিস্তান নিজেদের ''কৃতিত্ব হিসেবে প্রচার করতে চাইলেও একটি মাত্র ভুল সব পরিকল্পনা ফাঁস করে দেয়। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যখন সমাজমাধ্যমে এই ঘোষণা করেন, তখন তিনি ভুলবশত বার্তার ওপরের ‘ড্রাফট’ লেখাটি মুছতে ভুলে যান। যা দেখে অনেকেই নিশ্চিত হন যে, শরিফের ওই পোস্ট আসলে আগেই হোয়াইট হাউস থেকে অনুমতি পেয়েছিল।

আলোচনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই সৌদি আরবের জুবাইল শিল্পাঞ্চলে ড্রোন হামলা চালায় ইরান। এতে ক্ষুব্ধ হয় পাকিস্তান। সৌদির দীর্ঘদিনের বন্ধু ইসলামাবাদ সাফ জানিয়ে দেয়, এমন আচরণ চলতে থাকলে ইরানকে একা ফেলে দেবে তারা। এই চাপের মুখেই বুধবার বিকেলে ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইসলামাবাদে প্রতিনিধি পাঠাতে রাজি হন।

আপাতত যুদ্ধ থামলেও কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন - ইসলামাবাদ কি সত্যিই স্বাধীনভাবে এই কাজ করল, নাকি ট্রাম্পের দেওয়া ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ পূরণ করল মাত্র?