আজকাল ওয়েবডেস্ক: ৮ এপ্রিল ২০২৬, দিনটি পাকিস্তানের জন্য ছিল এক বড় কূটনৈতিক সাফল্যের মুহূর্ত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি মধ্যস্থতা করে ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করেছিল। কিন্তু এই উচ্ছ্বাস বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে, যখন ইজরায়েল লেবাননে ব্যাপক হামলা চালায় এবং শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়।


এই পরিস্থিতিতে মূল প্রশ্ন উঠে আসে—লেবানন কি এই যুদ্ধবিরতির আওতায় ছিল, নাকি নয়? আর এখানেই শুরু হয় বিভ্রান্তি, যার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে পাকিস্তান।


পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করার সময় স্পষ্টভাবে বলেন, এই চুক্তি “সর্বত্র” কার্যকর হবে, যার মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত। তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বড় অক্ষরে এভরিহোয়ার শব্দটি ব্যবহার করা হয়, যা ইঙ্গিত দেয় যে এই চুক্তির পরিধি ব্যাপক।


কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ভিন্ন অবস্থান নেয়। তাদের মতে, লেবানন কখনওই এই যুদ্ধবিরতির অংশ ছিল না। ইজরায়েল দ্রুত এই চুক্তিকে স্বাগত জানালেও স্পষ্ট করে দেয় যে লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান চলতেই থাকবে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তারা লেবাননে বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়।


পাকিস্তানের পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত রিজওয়ান সাঈদ শেখ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, লেবানন যুদ্ধবিরতির অংশ ছিল এবং প্রধানমন্ত্রী শরিফের ঘোষণা ছিল সম্পূর্ণ সঠিক। তবে তিনি এটাও স্বীকার করেন যে মধ্য এশিয়াতে যুদ্ধবিরতি সাধারণত খুবই ভঙ্গুর হয়।


অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু পাকিস্তানের এই দাবি সরাসরি খারিজ করে দেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, লেবাননের সংঘাত সম্পূর্ণ আলাদা বিষয় এবং তা যুদ্ধবিরতির আওতায় পড়ে না। এর ফলেই দ্রুত পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং লেবাননে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়—২৫০-র বেশি মানুষ নিহত এবং হাজারের বেশি আহত হন।


লেবাননের এই সংঘাত শুরু হয়েছিল ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলার পর, যার জবাবে ইজরায়েল ব্যাপক পাল্টা আক্রমণ চালায়। মার্চ মাসের শুরু থেকে এই সংঘাতে ইতিমধ্যেই হাজারের বেশি প্রাণহানি ঘটেছে।


এই প্রেক্ষাপটে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়া “অযৌক্তিক”।


এরই মধ্যে ইরান আবারও হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, যা বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে, প্রশ্ন উঠছে—পাকিস্তান কি সত্যিই এই চুক্তি সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হয়েছে? কিছু রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান হয়তো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কাছে ভিন্ন ভিন্ন বার্তা পৌঁছে দিয়েছে, যার ফলে এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

 

&t=546s
যদিও বিষয়টি এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়, তবে এই ঘটনা প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সামান্য ভুল ব্যাখ্যাও কত বড় সঙ্কট তৈরি করতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থির পরিস্থিতি এখন আরও জটিল হয়ে উঠেছে, এবং বিশ্ব নজর রাখছে পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এবং পাকিস্তানের দিকেও।