আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরেই শান্তির বার্তা দিল পাকিস্তান। চলতি পাকিস্তান সুপার লিগে সাদা পায়রা উড়িয়ে শান্তির বার্তা দেওয়া হল এই দেশটির তরফে।
অংশ নিয়েছিলেন বাবর আজম, মার্নাস লাবুশেনের মতো ক্রিকেটাররা। বুধবার পিএসএলে হায়দরাবাদ কিংসমেন ও পেশোয়ার জালমির ম্যাচ শুরুর আগে সাদা পায়রা উড়িয়ে শান্তির বার্তা দেওয়া হয়।
পেশোয়ার জালমির অধিনায়ক বাবর আজম এবং হায়দরাবাদ কিংসমেনের অধিনায়ক মার্নাস লাবুশেনের সঙ্গে পিএসএলের চেয়ারম্যান সলমন নাসিরও এই প্রতীকী কর্মসূচিতে অংশ নেন।
ম্যাচের আগে এই ঘোষণা করেন পাকিস্তানের প্রাক্তন মহিলা ক্রিকেটার উরুজ মুমতাজ। মুমতাজ বলেন, ‘বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পেরে পাকিস্তান গর্বিত। সেই বার্তার শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে আজ আমরা দুই অধিনায়ক মার্নাস লাবুশেন ও বাবর আজম এবং পিএসএল সিইও সলমন নাসিরকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। এই উপলক্ষে আমরা একটি সাদা পায়রা উড়িয়ে শান্তির বার্তা তুলে ধরব।’
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাত থামাতে মধ্যস্থতা করে পাকিস্তান বড় কূটনৈতিক সাফল্যের দাবি করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য নির্ধারিত সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে ইসলামাবাদ উত্তেজনা কমাতে শেষ মুহূর্তে আলোচনায় অংশ নিয়েছিল বলেও দাবি করা হয়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ট্রাম্পকে সময়সীমা দু’সপ্তাহ বাড়ানোর এবং একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি সমর্থনের আহ্বান জানান বলে জানা যায়। শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প মঙ্গলবার নিজের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে পিছু হটেন এবং দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হন।
প্রায় ছ’সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাত অবশেষে দু’সপ্তাহের জন্য থেমেছে। ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয়ই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে।
একই সঙ্গে ইরান শর্তসাপেক্ষে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। যা বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরেও পরিস্থিতি চিন্তা বাড়াচ্ছে প্রতি মুহূর্তে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর, ২৪ ঘণ্টা কাটেনি। তার আগেই, ইরান অভিযোগ তুলেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট শর্ত লঙ্ঘন করেছে।
দাবি, ১০ শর্তের মধ্যে, তিন শর্ত মানছে না মার্কিন মুলুক। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, ১০ দফা শর্ত নিয়ে আলোচনা করার কথা ছিল।
দু'সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণাও করেন ট্রাম্প। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনটি শর্ত ভেঙে ফেলা হল। পরিস্থিতি তাহলে কোন দিকে যাবে? এই চিন্তার মাঝেই ফের বড় বার্তা ট্রাম্পের!
সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, ইরান এখনও নজরবন্দি। অর্থাৎ মার্কিন সেনাদের এখনই সরিয়ে নিচ্ছে না ট্রাম্প প্রশাসন।
সঙ্গেই জানিয়েছেন, দু'তরফ যদি চুক্তি না মানে, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। ঠিক কী বলেছেন ট্রাম্প? মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, দু'পক্ষ একটি প্রকৃত চুক্তিতে পৌঁছতে না পারলে, ব্যর্থ হলে, আরও চরম, ভয়াবহ গোলাগুলির পরিস্থিতি তৈরি হবে।
একইসঙ্গে ট্রাম্প জানিয়েছেন, একটি প্রকৃত চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী ইরানের ভিতরে ও তার আশেপাশে মোতায়েন থাকবে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য চিন্তা বাড়াচ্ছে।















