আজকাল ওয়েবডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে ইচ্ছুক জাহাজগুলোর কাছ থেকে আগাম টোল আদায়ের দাবি তুলেছে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস। টোল হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা চীনা ইউয়ানে টাকা নেওয়ার আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুমতি ছাড়া প্রণালী পার হওয়ার চেষ্টা করলে জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হতে পারে। এমন সতর্কবার্তাও সম্প্রচার করা হয়েছে বলে কিছু নাবিক জানিয়েছেন। জানা গিয়েছে, সপ্তাহের নির্দিষ্ট কিছু দিনে খুব সীমিত সংখ্যক জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমস মারফত জানা গিয়েছে, পণ্যবোঝাই তেলবাহী জাহাজের ক্ষেত্রে ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার পর্যন্ত টোল ধার্য হতে পারে।
যদিও খালি জাহাজ বিনা খরচে পার হতে পারে। সুপারট্যাঙ্কারের ক্ষেত্রে আকার ও কার্গোর পরিমাণ অনুযায়ী এই টোল কয়েক মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকায় ডলারে লেনদেন কঠিন হয়ে পড়েছে। সে কারণে ক্রিপ্টোকারেন্সি বেছে নেওয়া হয়েছে যা ট্র্যাক করা তুলনামূলক কঠিন। পাশাপাশি, ইউয়ানে লেনদেন হলে তা পশ্চিমী ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিছু ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই ইউয়ানে টোল আদায় শুরু হয়েছে। এতে উপসাগরীয় তেল উৎপাদক দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ এতে বিশ্বজুড়ে তেল বাণিজ্যে বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে। পশ্চিমা প্রভাব কমে যেতে পারে।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন অনুযায়ী সুয়েজ খাল বা পানামা খালের মতো জলপথে টোল নেওয়া বৈধ। তবে হরমুজ প্রণালীর মতো প্রাকৃতিক জলপথে এই ধরনের টোল আরোপের অনুমতি নেই।
উপসাগরীয় দেশগুলো অভিযোগ করেছে, এই পদক্ষেপ জাতিসংঘের সমুদ্র আইন কনভেনশনের অধীনে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার নীতির পরিপন্থী। অপরদিকে, হরমুজ প্রণালীর বিপরীতে থাকা ওমানও এই ধরনের কোনও রাজস্ব ভাগাভাগির প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে।















