আজকাল ওয়েবডেস্ক: শনিবার ইসলামাবাদে শুরু হয়েছে ইরান-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি বৈঠক। পাঁচ ঘণ্টা দেরিতে এই বৈঠক শুরু হয়েছে। কিন্তু যদি এই বৈঠক ব্যর্থ হয়? তবে কি আবারও যুদ্ধ শুরু হবে? এবার তা নিয়েই মুখ খুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

শনিবার সন্ধ্যায় ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, "আমাদের এখন কোনও বিকল্প পরিকল্পনার দরকার নেই। ইরান এই যুদ্ধে আগেই হেরে গিয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সংখ্যাও এখন অনেক কম। এমনকী ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কমে গেছে। মার্কিন বাহিনী যা কাজ করেছে, তা এক কথায় অসাধারণ।" 

এদিন হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’।হরমুজ প্রণালী খুব বেশি দেরি না করেই আবার খুলে যাবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায় এটি ‘অদূর ভবিষ্যতেই’ পুনরায় চালু হবে। 

 

এদিন পাকিস্তানে শান্তি বৈঠকে ইরানের ৭০ জনের প্রতিনিধিদল উপস্থিত রয়েছে। উপস্থিত আছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন প্রতিনিধি দলে রয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনার। 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, এদিন বৈঠক শুরুর আগে ইরান কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত আরোপ করেছে। তাদের দাবি, লেবাননে অবিলম্বে ইজ়রায়েলি হামলা বন্ধ করা এবং কাতারে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ ইরানি সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত চাপিয়েছে তারা। 

যুদ্ধবিরতির আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ১০ দফা শর্ত দিয়েছিল ইরান। কিন্তু এর পরেই লেবাননে ভয়ঙ্কর হামলা করে ইজরায়েল। এখন ইরানের দাবি, আলোচনার আগেই ট্রাম্প ১০টির মধ্যে তিনটি শর্ত ভেঙে দিয়েছেন। এরপরই ফের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। 

 

কোন তিনটি শর্ত ভাঙা হয়েছে? 

ইরানের দাবি, প্রথমটি লেবানন প্রসঙ্গে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ মধ্যস্থতার সময় স্পষ্ট জানানো হয়েছিল, লেবানন-সহ সব অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই শর্ত মানা হয়নি। ইজরায়েল লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়েছে গতকাল। 

 

দ্বিতীয়টি হল, যুদ্ধবিরতির পরেও ইরানের আকাশসীমায় সন্দেহজনক এককটি ড্রোন প্রবেশ করে। যা পরে ফার্স প্রদেশের লার এলাকায় ভূপাতিত করা হয়। তৃতীয়টি হল, ইরানের পারমাণবিক অধিকার ঘিরে। তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার স্বীকৃত ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেই অধিকারকে কার্যত অস্বীকার করছে। 

 

ইরানি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, আমেরিকার কাছে পেশ করা ইরানের ১০ দফা শর্তগুলো হল: 

১. ইরানের ওপর ভবিষ্যতে কোনও হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি। 

২.হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।

৩. ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার মেনে নেওয়া।

৪. প্রাথমিক স্তরের সমস্ত নিষেধাজ্ঞা বাতিল। 

৫. দ্বিতীয় স্তরের যাবতীয় অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া।

৬. রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের বিরুদ্ধে পাশ হওয়া সমস্ত প্রস্তাব বাতিল করা।

৭. আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থায় ইরানের বিরুদ্ধে থাকা সব প্রস্তাব বাতিল করা।

৮. যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

৯. পশ্চিম এশিয়া থেকে সব মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়া।

১০. লেবানন-সহ সব সীমান্তেই লড়াই বন্ধ করা।