আজকাল ওয়েবডেস্ক: টানা ২৯ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অন্ধকারের অবসান। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবশেষে সচল হল কিউবার জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড। জ্বালানি সংকট এবং যান্ত্রিক বিভ্রাটে দ্বীপরাষ্ট্রটির প্রায় এক কোটি মানুষ অন্ধকারে ডুবে যাওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে দেশটির বৃহত্তম বিদ্যুৎ কেন্দ্র 'আন্তোনিও গুইতেরাস'-এ উৎপাদন শুরু হয়েছে। তবে গ্রিড সচল হলেও স্বস্তি ফিরছে না এখনই; বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটানো এখনও বড় চ্যালেঞ্জ প্রশাসনের কাছে।
সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই নজিরবিহীন ব্ল্যাকআউটে থমকে পড়েছিল কিউবার জনজীবন। রাজধানী হাভানা থেকে শুরু করে প্রান্তিক গ্রাম—সবই ছিল বিদ্যুৎহীন। ঘরোয়া কাজ থেকে শুরু করে পানীয় জল সরবরাহ, সবেতেই হাহাকার পড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা কার্লোস মন্তেস দে ওকা-র কথায়, "আমাদের জীবনের প্রতিটি দিক ক্ষতিগ্রস্ত। করার কিছু নেই, শুধু বসে অপেক্ষা করা আর বই পড়া—নইলে মানসিক চাপ সামলানো মুশকিল।"
নেপথ্যে আমেরিকা? তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা। এই গ্রিড বিপর্যয়ের জন্য সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল ডিয়াজ-কানেল। তাঁর অভিযোগ, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার জ্বালানি আমদানির পথ কার্যত রুদ্ধ করে দিয়েছে। ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আসায় বাধা দেওয়া এবং জ্বালানি বহনকারী জাহাজগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞার খড়গ ঝোলানোর ফলেই এই চরম বিপর্যয়। ডিয়াজ-কানেল সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, "ওরা আমাদের অর্থনীতিকে শ্বাসরোধ করে মারতে চায় যাতে আমরা আত্মসমর্পণ করি।"
&t=1sঅন্যদিকে, দায় নিতে নারাজ আমেরিকা। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক আধিকারিক পাল্টা দাবি করেছেন, এই ব্ল্যাকআউট আসলে কিউবার 'ব্যর্থ শাসনের অক্ষমতার প্রতীক'। তাদের মতে, কয়েক দশকের পুরনো জরাজীর্ণ বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং অব্যবস্থাপনাই এই অন্ধকারের আসল কারণ।
কিউবার বিদ্যুৎ ব্যবস্থার বড় অংশ নির্ভর করে সৌরশক্তি এবং তেল-চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওপর। কিন্তু তথ্য অনুযায়ী, এ বছর কিউবায় মাত্র দুটি তেলের জাহাজ পৌঁছাতে পেরেছে। ফলে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন অনেক কম। বিদ্যুৎ ফিরলেও অনেক এলাকায় দিনে ১৬ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং চলছে।
তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই খবর মিলছে যে, পরিস্থিতি সামাল দিতে কিউবা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। ১৯৫৯ সালের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক যতটা তলানিতে ঠেকেছে, তাতে এই আলোচনা কতটা ফলপ্রসূ হয়, সেদিকেই তাকিয়ে বিশ্ব। তবে সাধারণ কিউবানরা বরাবরের মতোই শান্ত। জুয়ানা পেরেজ নামে এক গৃহবধূ বললেন, "আমার বাড়িতে এখনও কারেন্ট আসেনি। তবে আমরা মানিয়ে নেব, কিউবার মানুষ এটাই তো বরাবর করে আসছে।"
