আজকাল ওয়েবডেস্ক:  প্রথম দেখায় মনে হয়েছিল তারা অভিন্ন যমজ—চেহারা, গঠন, এমনকি অনেক অভ্যাসেও মিল। পরিবার-পরিজন থেকে বন্ধুবান্ধব, সকলেই বিশ্বাস করতেন যে দুই বোনই একই বাবা-মায়ের অভিন্ন সন্তান। কিন্তু একটি ডিএনএ পরীক্ষার ফল বদলে দিল সেই ধারণা। পরীক্ষায় জানা গেল, দুই বোনের বাবা আলাদা—যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে অত্যন্ত বিরল একটি ঘটনা।


সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে এই ঘটনা সামনে এসেছে এবং এটি দেশের ইতিহাসে প্রথম নথিভুক্ত এমন একটি কেস বলে জানা গেছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই ঘটনাকে বলা হয় “হেটারোপ্যাটার্নাল সুপারফেকান্ডেশন” । সহজভাবে বললে, একই মায়ের গর্ভে একই সময়ে দুটি ডিম্বাণু নিষিক্ত হয়েছে, কিন্তু ভিন্ন দুই পুরুষের শুক্রাণু দ্বারা।


এই প্রক্রিয়া সাধারণত ঘটে যখন কোনও নারী স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দুই ভিন্ন পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হন এবং সেই সময়ে তার ডিম্বস্ফোটন ঘটে। ফলে দুটি পৃথক ডিম্বাণু দুটি আলাদা শুক্রাণুর মাধ্যমে নিষিক্ত হয়ে যমজ সন্তানের জন্ম দিতে পারে—কিন্তু তাদের পিতা ভিন্ন হয়।


চিকিৎসকদের মতে, এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল। বিশ্বজুড়ে এর নথিভুক্ত কেসের সংখ্যা খুবই কম। কারণ সাধারণত যমজ সন্তানদের ক্ষেত্রে এক বা দুই ধরনের সম্ভাবনা থাকে—একই ডিম্বাণু থেকে বিভাজিত হয়ে অভিন্ন যমজ অথবা দুটি পৃথক ডিম্বাণু থেকে ভিন্ন যমজ। কিন্তু এই বিশেষ ক্ষেত্রে ভিন্ন যমজ হওয়ার পাশাপাশি তাদের পিতাও আলাদা।


এই ঘটনার সামনে আসার পেছনে রয়েছে একটি আইনি প্রক্রিয়া। জানা গেছে, দুই বোনের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় আদালতের নির্দেশে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়।তখনই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আদালতও এই বিরল জৈবিক বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দিয়েছে।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ঘটনা সামাজিক ও আইনি দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে—বিশেষ করে পিতৃত্ব নির্ধারণ, ভরণপোষণ, এবং পারিবারিক অধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে। একই পরিবারের দুই সন্তানের পিতা আলাদা হলে আইনগতভাবে কীভাবে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে, তা নিয়ে নতুন করে ভাবনার প্রয়োজন দেখা দেয়।


তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি মানবদেহের জটিলতা এবং প্রকৃতির অদ্ভুত ক্ষমতার একটি উদাহরণ। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই ধরনের ঘটনা আমাদের প্রজনন প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করে।

 

&t=125s
সব মিলিয়ে, এই ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়, বরং বৈজ্ঞানিক এবং সামাজিক—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ। এটি প্রমাণ করে, মানুষের শরীর এবং তার কার্যপ্রণালী সম্পর্কে এখনও অনেক কিছু জানার বাকি রয়েছে, এবং কখনও কখনও বাস্তবতা কল্পনার চেয়েও বেশি বিস্ময়কর হতে পারে।