আজকাল ওয়েবডেস্ক: হরমুজ প্রণালী অবরোধ। তার ফাঁকেই একের পর এক ইরানি পণ্যবাহী জাহাজ দখল করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। শুধুমাত্র তাইই নয়, সেই জাহাজ থেকে তেল চুরির অভিযোগ উঠল এবার। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই এবার মুখ খুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি মার্কিন সেনার অভিযানকে জলদস্যুদের সঙ্গে তুলনা করলেন। 

 

শনিবার ফ্লোরিডায় একটি জনসভায় উপস্থিত ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই জনসভায় তিনি জানান, "মার্কিন সেনা ইরানি জাহাজগুলি দখল করেছে। সেই জাহাজগুলি থেকে তেলও নিয়েছে। আমরা জলদস্যুদের কায়দায় গোটা অভিযান চালিয়েছি। এটা কোনও খেলা নয়, পুরোটাই বাস্তব।" 

 

অন্যদিকে ইরানি জাহাজ দখল করে, মার্কিন সেনার তেল চুরির বিষয়টিকে 'ডাকাতি' বলে কটাক্ষ করেছে তেহরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, "জলদস্যুরা ফিরে এসেছে। এই ধরনের কার্যকলাপ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একে যুক্তি দিয়ে বোঝাতে চাইছে, কিন্তু এই ধরনের কার্যকলাপ সম্পূর্ণ বেআইনি।" 

 

এদিকে ইরানের সঙ্গে সংঘাত শেষ হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যে সংঘাত শুরু হয়েছিল তা সমাপ্ত বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। গত ৭ এপ্রিল থেকে দু’পক্ষের মধ্যে আর কোনও গোলাগুলির বিনিময় হয়নি। মার্কিন কংগ্রেসকে চিঠি লিখে শুক্রবার এমনটাই দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন আইন অনুযায়ী, শুক্রবারই যুদ্ধের সময়সীমা শেষ হয়েছে। এর পরেও যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এখনও ট্রাম্প তা পাননি। তাই শুক্রবার কংগ্রেসকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ প্রসঙ্গে চিঠিটি লিখেছেন তিনি। 

 

মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া শুরু হওয়া যে কোনও সংঘাতের ক্ষেত্রে ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারিত। প্রেসিডেন্ট তাঁর ক্ষমতাবলে সামরিক পদক্ষেপ করতে পারেন। তা ওই সময়সীমা পর্যন্ত সংঘাত চালিয়ে যেতে পারেন তিনি। এরপর সেনা প্রত্যাহারের জন্য অতিরিক্ত ৩০ দিন সময় আরও নিতে পারেন। ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষের ক্ষেত্রে ৬০ দিনের সময়সীমা শুক্রবারই শেষ হয়েছে। 

 

ট্রাম্প চিঠি লেখার আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বৃহস্পতিবার সেনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটিকে যুদ্ধ প্রসঙ্গে বয়ান দিয়েছিলেন। তাঁর কথাগুলিই কংগ্রেসকে লেখা চিঠিতে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। তবে ৬০ দিনের মধ্যে সেনা প্রত্যাহারের নিয়মটি নিয়ে বেশ বিরক্তও ট্রাম্প। জানিয়েছেন, এটি ‘অসাংবিধানিক’। এদিকে, ট্রাম্পের এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন ডেমোক্র্যাটরা। তাঁদের দাবি, ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষ আদৌ থামেনি। হাজার হাজার মার্কিন সেনা এখনও পশ্চিম এশিয়ায় রয়েছেন। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালী নিয়েও জট কাটেনি।  

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘর্ষে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। তবে এখনও সাফল্য আসেনি। ইসলামাবাদে আয়োজিত প্রথম দফার বৈঠক ব্যর্থ হয়েছে। তার পর থেকে দ্বিতীয় দফার আলোচনা আয়োজনের চেষ্টা চলছে। দু’পক্ষের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদেও গিয়েছে। তবে এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে আলোচনার কোনও ঘোষণা হয়নি। এদিকে, ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, ‘‌ইরানকে আমরাই সামলেছি। নইলে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ শেষ হয়ে যেত।’‌ তাঁর আরও দাবি, ‘‌ইরানের এখন আর কোনও নৌ বা বিমানবাহিনী নেই। বিমান বিধ্বংসী সরঞ্জামও নেই। রাডার নেই। নেতারা দেশ ছেড়ে চলে গেছেন।’‌ ট্রাম্পের এই কথার পর নতুন করে ধন্দ শুরু হয়েছে।