আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরান-আমেরিকার চলমান উত্তেজনায় নয়া মোড়। শনিবার ইরানের তরফে পেশ করা শান্তি প্রস্তাব। কিন্তু তা কার্যত নাকচ করে দিয়েছে আমেরিকা। এতো সহজেই সমস্ত প্রস্তাব মেনে নিতে নারাজ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে তেমনই জানা গিয়েছে।

 

শনিবার মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরান নতুন ১৪-দফা শান্তি প্রস্তাব জমা দিয়েছে। সেখানে ইরান তাদের অবস্থান ফের স্পষ্ট করে দিয়েছে। জানিয়েছে, আমেরিকার হাতেই রয়েছে সম্পর্ক মসৃণ করার চাবিকাঠি। এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা যেমন উল্লেখ হয়েছে। তেমনি হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে জলপথে আমেরিকা যে অবরোধ চালাচ্ছে, তা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। সংঘাত কমানোর জন্য যে পারমাণবিক প্রকল্পে আমেরিকার আপত্তি, তা নিয়ে পরে আলোচনা করতেও প্রস্তুত বলে জানিয়েছে ইরান। তবে আমেরিকা চাইলে তারা ক্রমাগত যুদ্ধ চালিয়ে যেতেও প্রস্তুত। সেই সামরিক শক্তি তাদের রয়েছে। ইরানের উপবিদেশমন্ত্রী কাজ়েম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, তেহরান যে কোনও পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত। আমেরিকাকে বেছে নিতে হবে, তারা কী চায়।

 

তবে ট্রাম্প ইরানের এই প্রস্তাবে রাজি নয়। ট্রাম্পের দাবি, ইরান এখনও লিখিত আকারে ওই প্রস্তাব লিখে পাঠায়নি। প্রস্তাবের একটি প্রাথমিক ধারণা পেয়েছেন তিনি। প্রস্তাবে কী কী বলা হবে, কোন শব্দ প্রয়োগ করা হবে, তার উপর নির্ভর করছে শান্তিচুক্তি। পাশাপাশি, ইরানের উপর ফের হামলা শুরুর ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের দাবি, এত সহজে আমরা প্রস্তাবে সম্মতি দেব না। মানুষের যে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি করেছে ইরান, আগে তাদের সেই মূল্য চোকাতে হবে।

 

এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, হরমুজে মার্কিন নৌ-অবরোধ পেরিয়ে গিয়েছে ইরানের তেলবাহী জাহাজ। পৌঁছে গিয়েছে দক্ষিণ চিন সাগরের রিয়াও দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি। ট্যাঙ্কারে নজরদারি সংস্থা ট্যাঙ্কার ট্র্যাকার্স ডট কম-জানিয়েছে, ইরানের ট্যাঙ্কার 'হিউজ' ১৯ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে ওই অবরোধ ফাঁকি দিয়েছে। যার অর্থমূল্য প্রায় ২২ কোটি ডলার।