আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানের রাজধানী তেহরানের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ইসলামশহর এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এবং নূর নিউজ এই হামলার খবর নিশ্চিত করলেও ঠিক কী কারণে ওই ভবনটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হলো, সে বিষয়ে এখনো কোনও  স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি। আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত ইজরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র—কোনও  পক্ষই এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় হুমকি দিয়ে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার যে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, তার পরপরই এই হামলার ঘটনা ঘটল।

একই সময়ে তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত শিয়াদের পবিত্র শিক্ষা নগরী কোম-এর একটি আবাসিক এলাকাতেও বিমান হামলার খবর দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত দৈনিক 'ইরান'। সেখানে অন্তত পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। এই সংঘাতের আঁচ শুধু ইরানের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং পুরো পশ্চিম এশিয়া জুড়েই এক অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর  কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খোর ফাক্কান বন্দরে একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় তার ধ্বংসাবশেষ পড়ে নেপালি ও পাকিস্তানি নাগরিকসহ চারজন আহত হয়েছেন। এছাড়া রুওয়াইসের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় আগুনের ঘটনায় সেখানে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।

&t=1s

কুয়েত ও বাহরাইনের চিত্রও অনেকটা একই রকম। কুয়েতের বিদ্যুৎ মন্ত্রক  জানিয়েছে, ইরানি ড্রোন হামলায় তাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং জল বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে অনেক এলাকা সেবা থেকে বঞ্চিত। বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, একটি জাতীয় তেল কোম্পানির গুদাম এবং পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় ড্রোন হামলার পর সেখানে আগুন ধরে যায়। অন্যদিকে ইজরায়েলের  উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাইফাতেও একটি বহুতল ভবনে আঘাত হানা হয়েছে, যার ফলে নিখোঁজ তিনজনের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চলছে।

এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে এখন পর্যন্ত ১,৯০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও দেশটির সরকার গত কয়েকদিন ধরে নিহতের সংখ্যার কোনো হালনাগাদ তথ্য দেয়নি। লেবাননেও পরিস্থিতি ভয়াবহ; সেখানে ইজরায়েলি  হামলায় অন্তত ১,৪০০ মানুষ নিহত এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছেন। সংঘাতের এই বিস্তার এখন উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে শুরু করে অধিকৃত পশ্চিম তীর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে মার্কিন সেনা এবং ইজরায়েলি  নাগরিকদের প্রাণহানির খবরও পাওয়া যাচ্ছে। এরই মধ্যে তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটি এলাকায় একটি গ্যাস স্টেশনে হামলার পর ওই অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক চরম অনিশ্চয়তা ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।