আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানে চলতে থাকা ব্যাপক সরকার বিরোধী বিক্ষোভের আবহে ফের কড়া বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং আলোচনায় বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

“ইরানের নেতারা গতকাল ফোন করেছিলেন,” বলেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, “একটা বৈঠকের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ওরা আলোচনা করতে চায়।” তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দেন, আলোচনায় বসার আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। “আমাদের হয়তো বৈঠকের আগেই কাজ করতে হবে,” বলেন তিনি।

ট্রাম্পের অভিযোগ, ইরানে বিক্ষোভ দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হচ্ছে এবং এমন মানুষও মারা পড়ছেন, যাদের মরার কথা নয়। ইরানের শাসকদের নিয়ে কড়া ভাষায় মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এরা কি আদৌ নেতা? নাকি শুধু হিংসার জোরে শাসন চালায়?” এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন কয়েক দিন আগেই ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে এক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তার হাতে এক ৩৭ বছরের মহিলার  মৃত্যুর ঘটনাকে সমর্থন করেছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, ইরানের পরিস্থিতির দিকে গভীর নজর রাখছে মার্কিন সেনাবাহিনী। “আমরা বিষয়টিকে খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। সামরিক স্তরেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বেশ কিছু শক্ত বিকল্প আমাদের সামনে রয়েছে। আমরা শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেব,” বলেন তিনি।

ইরান কি কোনও ‘রেড লাইন’ পার করেছে এই প্রশ্নে ট্রাম্প নির্দিষ্ট কোনও সামরিক পরিকল্পনার কথা বলতে চাননি। উল্টে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আপনি কি চান আমি বলে দিই কোথায় হামলা হবে, কখন হবে, কোন দিক থেকে হবে?” তাঁর কথায় স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবেই নিজের কৌশল প্রকাশ্যে আনছে না।

ট্রাম্প জানান, ইরানের ভিতরের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি প্রতি ঘণ্টায় রিপোর্ট পাচ্ছেন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিক্ষোভে মৃত্যুর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কিছু মানুষ ভিড়ের চাপে মারা গেছেন, আবার কেউ কেউ গুলিতে নিহত হয়েছেন।

ইরান বা তাদের মিত্ররা যদি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ নেয়, সে ক্ষেত্রেও ট্রাম্প কোনও রাখঢাক রাখেননি। তাঁর সাফ হুঁশিয়ারি, “ওরা যদি এমন কিছু করে, তাহলে আমরা এমনভাবে আঘাত করব, যা ওরা আগে কখনও দেখেনি। বিশ্বাসই করতে পারবে না।”

নিজের আগের পদক্ষেপের কথা মনে করিয়ে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরান ভালো করেই জানে যুক্তরাষ্ট্র কতটা কঠোর হতে পারে। “সোলেইমানিকে হত্যা, আল-বাগদাদিকে শেষ করা, ইরানের পারমাণবিক হুমকি শেষ- এসবের পরও কি মনে হয় ওরা আমার হুমকি গুরুত্ব দিয়ে নেয় না?” বলেন তিনি।

এই পুরো পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র মিত্র দেশগুলির সঙ্গে সমন্বয় করছে কি না, বা ঠিক কবে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সে বিষয়ে ট্রাম্প কোনও স্পষ্ট সময়সীমা দেননি।

উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানে একের পর এক বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে বিভিন্ন শহর। হাজার হাজার মানুষ বর্তমান শাসনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছেন। এই গণআন্দোলন এখন শুধু ইরানের অভ্যন্তরীণ সংকট নয়, মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।