আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প  এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু–এর সিদ্ধান্তে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুদ্ধ বুধবার পঞ্চম দিনে পড়েছে। সংঘাতে ইতিমধ্যেই ৮০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের অধিকাংশই ইরানে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেইনেই। লেবাননেও অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

যৌথ মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় পশ্চিম তেহরানজুড়ে ঘন ধোঁয়া দেখা গিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ Natanz Nuclear Facility-তেও আঘাত হানা হয়েছে বলে খবর, যদিও ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি—কোনও তেজস্ক্রিয়তা ছড়ায়নি। ইজরায়েলি বাহিনী লেবাননের রাজধানী বেইরুট ও দক্ষিণ লেবাননেও তীব্র বোমাবর্ষণ চালিয়েছে এবং স্থলসেনা মোতায়েন করেছে।

পাল্টা হিসেবে ইরান ৫০০-র বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রায় ২,০০০ ড্রোন ছুড়েছে বলে মার্কিন সামরিক সূত্রের দাবি। সৌদি আরবের রিয়াধে মার্কিন দূতাবাসে দুটি ড্রোন আঘাত হেনে সীমিত অগ্নিকাণ্ড ঘটায়, আর দুবাইয়ে মার্কিন কনস্যুলেটের কাছেও আগুন লাগে। কাতারের দোহায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ওমানের মাসকাটে মার্কিন দূতাবাস নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি পরিকাঠামো ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

&t=21s

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবোল্লাহ দাবি করেছে, তারা ইজরায়েলের উত্তরের মেতুলা শহর ও হাইফার একটি নৌঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইজরায়েল দক্ষিণ লেবাননে প্রায় ৬০টি হেজবোল্লাহ ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে। লেবানন সরকার হেজবোল্লাহর সামরিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করে অস্ত্র রাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

ওয়াশিংটনে যুদ্ধ ঘিরে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। ট্রাম্প বলেছেন, “বড় আকারের আঘাত এখন শুরু হয়েছে,” তবে সরাসরি শাসন পরিবর্তন তাঁর লক্ষ্য নয়—বরং ইরানের ভেতর থেকেই কেউ ক্ষমতা নিক, এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর  ব্রিফিংয়ের পর ডেমোক্র্যাটরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে। কুয়েতে ইরানি পাল্টা হামলায় চার মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে; মোট মার্কিন নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয়।

এই বহু-মুখী সংঘাত ইরান, ইজরায়েল ও লেবাননের সীমানা ছাপিয়ে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি করেছে। উপসাগরীয় দেশগুলিতে কর্মরত প্রায় এক কোটি ভারতীয় নাগরিকের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে, আর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে।