আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। ইজরায়েল-আমেরিকার যৌথ বিমান হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। দাফনের আগেই নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইজরায়েল জানিয়েছে, যিনি উত্তরসূরী হবেন, তিনিও হত্যার লক্ষ্যকেন্দ্র হবেন।
ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাতজ বুধবার কড়া হুঁশিয়ারি দেন। তিনি স্পষ্ট বলেন, ইরানের যে কোনও নতুন নেতা ইজরায়েলের টার্গেট হবেন। তাঁর কথায়, “ইরানের নেতৃত্ব যদি ইজরায়েল ধ্বংসের পরিকল্পনা অপরিবর্তিত রাখে, তাহলে সেই নেতৃত্ব , যেখানেই থাকুক, তাঁকে অবশ্যই আঘাত করা হবে।” তিনি ইজরায়েলি সেনাকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এই অভিযান “অপারেশন লায়নস রোর”-এর অংশ বলেও জানান তিনি।
এদিকে সরকারি বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, ৮৬ বছর বয়সী খামেনেইকে তাঁর জন্মস্থান মাসহাদে দাফন করা হবে। তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মসজিদে সাধারণ মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন। তা বাদে ইরানে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হবে।
তাঁর উত্তরসূরী কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। খবরে উঠে এসেছে তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনেই-এর নাম। ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, তাঁকেই বেছে নেওয়া হতে পারে। তবে ইরানের সরকারি মাধ্যমে এখনও কোনও রকম আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
ইরানে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস। খবরে বলা হয়, কোম্ব শহরে এই সংস্থার এক স্থানে হামলা হয়েছে। ইজরায়েলি এক সংবাদমাধ্যম দাবি করে, হামলার সময়ে সেখানে বৈঠক চলছিল। কিন্তু ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা জানায়, সেই সময় কোনও বৈঠক হচ্ছিল না। আরেকটি সংস্থা জানায়, ভোটাভুটি নিরাপদ পদ্ধতিতে দূরবর্তীভাবে হচ্ছে। শীঘ্রই নতুন নেতার ঘোষণা আসতে পারে।
ইরান–ইজরায়েল সংঘাত এখন চরমে। আমেরিকাও এই যুদ্ধে সরাসরি জড়িত। নতুন নেতা নির্বাচনের আগেই ইজরায়েলের এই হুমকি পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে উত্তেজনা বাড়বে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত স্পর্শকাতর। বিশ্বজুড়ে নজর রয়েছে তেহরানের দিকে।
