আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার রণক্ষেত্রে এবার সরাসরি নিশানায় বিশ্বের বৃহত্তম তেল শোধনাগার। সৌদির তেল উৎপাদন কেন্দ্র রাস তনুরায় ফের ড্রোন হামলা চালাল ইরান। আজ বুধবার খোদ সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। সৌদির তেল অর্থনীতির মূল স্তম্ভ বলে পরিচিত এই ‘আরামকো’ কমপ্লেক্স লক্ষ্য করে পর পর ড্রোন আছড়ে পড়ে। প্রাথমিক ভাবে কোনও বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি।

তবে সোমবারের চিত্রটা ছিল ভিন্ন। সে দিন ইরানের তৈরি ‘শাহেদ’ ড্রোনের বিধ্বংসী হামলায় রাস তনুরা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিল সৌদি প্রশাসন। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের পথ কার্যত বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

পারস্য উপসাগরের ঠিক উল্টো দিকেই ইরানের অবস্থান। সৌদির যাবতীয় তেল ভাণ্ডার এবং পরিকাঠামো এই উপকূল এলাকাতেই ছড়ানো। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে হামলার পরেই এলপিজি রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে আরামকো। সংস্থা সূত্রে খবর, প্রোপেন ও বিউটেন রপ্তানির এই স্থগিতাদেশ আপাতত কয়েক সপ্তাহ বজায় থাকবে। যদিও স্থানীয় বাজারে জোগানে কোনও টান পড়বে না বলে আশ্বস্ত করেছে তারা।

ইরানের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করতে এবার বিকল্প পথে হাঁটছে রিয়াদ। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালী এখন শুধুই চিনা জাহাজের জন্য খোলা। তাই নিজেদের মান বাঁচাতে লোহিত সাগর দিয়ে তেল পাঠানোর মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে সৌদি।

সম্প্রতি ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে সংঘাতের আগুন নতুন করে জ্বলে উঠেছে। তেহরানের অভিযোগ, যে সব প্রতিবেশী দেশ মার্কিন সেনাকে নিজেদের মাটিতে ঘাঁটি গাড়তে দিয়েছে, তারা আসলে ‘বিশ্বাসঘাতক’। আর সেই আক্রোশ থেকেই ওমান, আমিরশাহি এবং কাতারের তেল পরিকাঠামো লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে ইরান।

যুদ্ধের এই আঁচ লেগেছে বিশ্ববাজারেও। বুধবার এক ধাক্কায় অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১ ডলারের বেশি বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২.৫৩ ডলারে, যা গত দেড় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

সংকটের ছায়া প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতেও তেলের ডিপো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা হয়েছে। অন্য দিকে, উৎপাদন প্রায় অর্ধেক কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে ইরাক। ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো এখন তেলের জন্য বিকল্প দেশের দিকে তাকাচ্ছে। সংকটের মেঘ ঘনিয়ে আসায় উৎপাদন বন্ধ রাখার কথা ভাবছে বহু চিনা সংস্থাও।