আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেই নিহত হওয়ার পর দেশ পরিচালনার জন্য তিন সদস্যের অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ গঠনের ঘোষণা করেছে তেহরান। প্রায় চার দশক ক্ষমতায় থাকা খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর রাজনৈতিক ও সামরিক অনিশ্চয়তার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।
ইরানের সংবিধানের ১১১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত একটি অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ দায়িত্ব পালন করবে। সেই পরিষদে রয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেসকিয়ান, প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেইন মহসিনই এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য আয়াতোল্লা আরেফী।
খামেনেই হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে ইরান সরকার। তেহরান ইতিমধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও ইজরায়েলি স্বার্থ-সম্পর্কিত লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে শাসন পরিবর্তনের পক্ষে মন্তব্য করেছেন এবং ইরানের জনগণকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন।
মাসুদ পেজেশকিয়ান (৭১), একজন সংস্কারপন্থী রাজনীতিক ও পেশায় হৃদরোগ সার্জন। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট হন। এর আগে তিনি প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মহম্মদ খাতামির মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন এবং পরে তাবরিজ শহর থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করা এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গঠনমূলক সংলাপ—এই প্রতিশ্রুতি নিয়েই তিনি নির্বাচনী লড়াই করেছিলেন। খামেনেই হত্যার পর তিনি বলেন, “এই ঐতিহাসিক অপরাধের নেপথ্যের ব্যক্তিদের শাস্তি দেওয়া আমাদের ন্যায্য অধিকার ও কর্তব্য।”
&t=21s২০২১ সালের জুলাইয়ে খামেনেই তাঁকে বিচার বিভাগের প্রধান হিসেবে নিয়োগ করেন। এর আগে তিনি গোয়েন্দামন্ত্রী, প্রসিকিউটর-জেনারেল এবং উপ-প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁকে রক্ষণশীল শিবিরের কট্টরপন্থী মুখ হিসেবে দেখা হয়। জানুয়ারিতে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের পতন ঘিরে বিক্ষোভের সময় তিনি “কোনও রকম নমনীয়তা দেখানো হবে না” বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
২০১৯ সাল থেকে গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য। এই কাউন্সিল আইন ও নীতিকে ইসলামি নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না তা যাচাই করে এবং নির্বাচনী প্রার্থীদের অনুমোদন দেয়। আরাফি একই সঙ্গে এক্সপার্টস অ্যাসেম্বলির উপ-সভাপতি—এই সংস্থাই নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে। তিনি কোম শহরের জুমার নামাজের ইমাম এবং দেশজুড়ে ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থার প্রধান হিসেবেও দায়িত্বে আছেন।
খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ধর্মীয় নেতৃত্ব দ্রুত উত্তরসূরি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এক্সপার্টস অ্যাসেম্বলি নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করবে। ততদিন অন্তর্বর্তী পরিষদ সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করবে। এই পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। তেহরান প্রতিশোধের অঙ্গীকার করছে, ওয়াশিংটন শাসন পরিবর্তনের আহ্বান জানাচ্ছে—এই অবস্থায় ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোবে, তা এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম বড় প্রশ্ন।
