আজকাল ওয়েবডেস্ক: কোথায় আছেন ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো? কী অবস্থায় রাখা হয়েছে তাঁকে? বন্দি করার পরেই জানতে চেয়েছিলেন আমজনতা। ভেনেজুয়েলার তরফে আমেরিকার কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল, তারা যেন মাদুরোর জীবিত থাকার প্রমাণ সামনে আনে। অবশেষে বন্দি অবস্থায় মাদুরোর প্রথম ছবি প্রকাশ্যে আনলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মাদুরোর ছবি পোস্ট করেছেন। 

 

গতকাল শনিবার নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে বন্দি অবস্থায় মাদুরোর ছবি শেয়ার করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবিতে দেখা গেছে, মাদুরোর পরনে ধূসর রঙের জ্যাকেট, প্যান্ট। কানে বড় হেডফোন। এক হাতে ধরে আছেন জলের বোতল। তাঁর চোখ ঢাকা কালো রঙের বড় সানগ্লাসে। দু'হাত তাঁর বাঁধা। গতকাল রাতেই নিউ ইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে মাদুরোকে। 

প্রসঙ্গত, ভারতীয় সময় শনিবার রাত ১০টা নাগাদ হোয়াইট হাউসে সাংবাদিক সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, “নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা চালাবে।” পাশাপাশি তিনি এও বলেন, নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে গ্রেপ্তার করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি অভিযোগে বিচার চলবে। 

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার ঘটনাপ্রবাহ “আমেরিকার সার্বভৌমত্বকে হুমকি দেওয়া বা আমেরিকান নাগরিকদের বিপন্ন করার চেষ্টা করলে তার কী পরিণতি হতে পারে” তাঁর স্পষ্ট বার্তা। 

 

প্রসঙ্গত, গতকাল শরিবার ভোররাতে কারাকাসে বিমান হামলার পর ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে বন্দি করে মার্কিন বাহিনী। ভেনিজুয়েলার রাজধানীতে বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা পরেই সর্বপ্রথম এই দাবি করেন স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

 

শনিবার স্থানীয় সময় ভোর দু'টো থেকে কারাকাস জুড়ে বেশ কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের খবর আসার পরেই এই দাবিটি করা হয়। বাসিন্দারা জানান, বিস্ফোরণে শহরের একাধিক এলাকা কেঁপে ওঠে, মাথার বেশ নীচ দিয়ে বিমান উড়তে দেখা যায়, যার ফলে মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।

 

নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র 'ভেনিজুয়েলা এবং তাঁর নেতার বিরুদ্ধে সফলভাবে একটি বড় আকারের হামলা চালিয়েছে।' তিনি আরও বলেন, মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় পরিচালিত এক অভিযানে মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে হেফাজতে নিয়ে দেশ থেকে বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। 

 

প্রসঙ্গত, বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই ভেনেজুয়ালা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক স্তরে তিক্ত সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এর আগে হুঁশিয়ারির সুরেই মার্কিন নৌসেনাকে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে পাঠানোর কথা বলেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ফলে ভেনেজুয়েলায় হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল। 

 

গত সোমবারই ট্রাম্প বলেছিলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার মাদক পাচারকারী নৌকাগুলোর জন্য ব্যবহৃত একটি ডকিং এলাকা লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে। তাতেই মাদক পাচারকারী নৌকাগুলি ধ্বংস হয়েছে। তবে, এই অভিযান সামরিক নাকি সিআইএ-র উদ্যোগ ছিল, অথবা আক্রমণটি কোথায় হয়েছিল, সে সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কিছু বলতে রাজি হননি। কেবল ট্রাম্প বলেছিলেন যে, আক্রমণটি "উপকূল বরাবর" হয়েছিল। 

 

ট্রাম্প প্রশাসন, মাদুরোকে মাদক চক্রের প্রধান বলে তোপ দেগেছিলেন। বলেছেন যে, আমেরিকা মাদক পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। যদিও ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট তথা বামপন্থী নেতা (মাদুরো) মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন। তাঁর কথায়, ওয়াশিংটন তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চাইছে কারণ ভেনিজুয়েলায় প্রচুর তেল মজুত রয়েছে।