আজকাল ওয়েবডেস্ক:  দীর্ঘ সাত বছরের নিষেধাজ্ঞার পর হঠাৎই ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে অবস্থান বদল করেছে পাকিস্তান। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ পাকিস্তান এখন নিয়ন্ত্রিতভাবে ক্রিপ্টো সংস্থাগুলিকে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে, যদিও পুরোপুরি বৈধতা দেয়নি। এই পরিবর্তন তাদের সাম্প্রতিক আর্থিক নীতিতে বড় মোড় বলেই ধরা হচ্ছে।


২০১৮ সালে পাকিস্তান ব্যাঙ্কগুলিকে নির্দেশ দিয়েছিল যাতে তারা ক্রিপ্টো-সংক্রান্ত কোনও ব্যবসার সঙ্গে লেনদেন না করে। কিন্তু নতুন কাঠামো অনুযায়ী, এখন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে। ফলে প্রথমবারের মতো ক্রিপ্টো সংস্থাগুলি আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আসছে।


তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ব্যাঙ্কগুলি নিজেরা ক্রিপ্টো কেনা-বেচা, ধরে রাখা বা বিনিয়োগ করতে পারবে না। অর্থাৎ, পাকিস্তান পুরোপুরি ক্রিপ্টোকে স্বীকৃতি না দিয়ে ‘নিয়ন্ত্রিত অন্তর্ভুক্তি’ পথ বেছে নিয়েছে। এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিশ্বজুড়ে ক্রিপ্টো অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে।


বিশ্লেষকদের মতে, ‘ট্রাম্প এফেক্ট’ এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গত এক বছরে পাকিস্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সংযুক্ত ক্রিপ্টো উদ্যোগগুলির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে। এই সংস্থাটি ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা যায়।


তবে শুধুই আন্তর্জাতিক রাজনীতি নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক বাস্তবতাও এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় কারণ। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, বাণিজ্য ঘাটতি এবং আর্থিক চাপের মুখে রয়েছে। বছরে প্রায় ৩৬ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স থাকা সত্ত্বেও, প্রচলিত ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় লেনদেন ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ।


এই প্রেক্ষাপটে, স্টেবলকয়েন—যা সাধারণত মার্কিন ডলারের সঙ্গে যুক্ত থাকে—ক্রস-বর্ডার লেনদেনের একটি সহজ ও দ্রুত বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে। বিশেষ করে তরুণ ও প্রযুক্তি-সচেতন জনসংখ্যার কারণে পাকিস্তানে ক্রিপ্টোর ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। অনুমান করা হয়, দেশে ১.৫ কোটি থেকে ৪ কোটি পর্যন্ত ক্রিপ্টো ব্যবহারকারী রয়েছে।


অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ও কাতারের কাছ থেকে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা পাওয়ার পরও অর্থনৈতিক চাপ পুরোপুরি কাটেনি। ফলে নতুন আর্থিক পথ খোঁজার প্রয়োজন থেকেই এই নীতিগত পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

 


সব মিলিয়ে, পাকিস্তানের ক্রিপ্টো নীতি পরিবর্তন একাধিক কারণের ফল—অর্থনৈতিক চাপ, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক কৌশলগত সম্পর্ক। ‘ট্রাম্প এফেক্ট’ এখানে একটি ভূমিকা রাখলেও, আসল চালিকা শক্তি তাদের আর্থিক বাস্তবতা। ভবিষ্যতে এই নীতি কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।