আজকাল ওয়েবডেস্ক: আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি-তে এক বিতর্কিত প্রতিবাদী শিল্পস্থাপনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই ইনস্টলেশনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কুখ্যাত ধনকুবের জেফ্রে এপস্টেইন-এর মতো দেখতে দুটি মূর্তি দেখানো হয়েছে, যেগুলি বিখ্যাত  টাইটানিক  ছবির আইকনিক ‘টাইটানিক পোজ’-এ দাঁড়িয়ে আছে।

এই শিল্পকর্মটি নাকি তৈরি করেছে শিল্পী গোষ্ঠী 'Secret Handshake'। কোনও পূর্বঘোষণা ছাড়াই চলতি সপ্তাহের শুরুতে এটি হঠাৎ করে শহরে দেখা যায়। এমন এক সময়ে এই ঘটনা সামনে এল, যখন ট্রাম্পের সঙ্গে প্রয়াত ধনকুবের এপস্টিনের সম্পর্ক নিয়ে আবারও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

এর আগেও ওয়াশিংটনে একই ধরনের প্রতিবাদী শিল্পকর্ম দেখা গেছে। গত সপ্তাহে Farragut Square-এ “Jeffrey Epstein Walk of Shame” নামে একটি প্রদর্শনী তৈরি করা হয়েছিল, যা Hollywood Walk of Fame-এর আদলে বানানো। সেখানে রাজনীতিবিদ, বিলিয়নিয়ার এবং এপস্টেইন-এর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ ওঠা বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম লেখা ছিল। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে National Mall-এ “Best Friends Forever” নামে একটি স্প্রে-পেইন্ট করা ব্রোঞ্জ ভাস্কর্য দেখা যায়, যেখানে ট্রাম্প ও এপস্টেইনকে হাত ধরাধরি করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে United States Department of Justice নতুন কিছু Federal Bureau of Investigation নথি প্রকাশ করেছে, যেখানে ২০১৯ সালে এক অজ্ঞাতপরিচয় মহিলার সাক্ষাৎকারের সারসংক্ষেপ রয়েছে। সেই মহিলা দাবি করেছেন, ১৯৮০-এর দশকে যখন তার বয়স ১৩ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে ছিল, তখন নিউইয়র্ক বা নিউ জার্সিতে এপস্টেইন-এর মাধ্যমে পরিচয়ের পর ট্রাম্প তাকে জোর করে যৌনকর্মে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিলেন।

তবে এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট এই অভিযোগকে “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এই নথি প্রকাশের পর United States House of Representatives-এর একটি কমিটি অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বোন্ডিকে  তলব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে এপস্টিন তদন্ত সংক্রান্ত নথি প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে তাকে প্রশ্ন করা যায়।

উল্লেখ্য, ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন যে ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়েই তার এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হয়ে যায় এবং তিনি এপস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। অন্যদিকে আগে প্রকাশিত কিছু রেকর্ডে দেখা গেছে যে ১৯৯০-এর দশকে ট্রাম্প একাধিকবার এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন—যদিও ট্রাম্প সেই দাবি অস্বীকার করেছেন।

২০১৯ সালে যৌন পাচারের অভিযোগে বিচার শুরুর অপেক্ষায় থাকাকালীন কারাগারে মারা যান এপস্টেইন, যার পর থেকে বিশ্বের বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে তদন্ত ও বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।