আজকাল ওয়েবডেস্ক: থমকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের শান্তি আলোচনা। এর মধ্যেই ইরানি নেতৃত্বের অন্দরে গভীর বিভেদ বা ফাটল তৈরি হয়েছে বলে খবর। জানা গিয়েছে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ বিদেশ মন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে তাঁর পদ থেকে অপসারণের জন্য চাপ দিচ্ছেন।

'ইরান ইন্টারন্যাশনাল'-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী পেজেশকিয়ান এবং গালিবাফ অভিযোগ করেছেন যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার সময় আরাঘচি প্রেসিডেন্টের দপ্তরকে এড়িয়ে চলেছেন, বদলে 'ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী' বা আইআরজিসি-এর নির্দেশাবলি অনুসরণ করেছেন। ওই প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, আরাঘচি সরকারের নীতি বাস্তবায়নকারী একজন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে কাজ করার পরিবর্তে ক্রমশ আইআরজিসি কমান্ডার আহমাদ ভাহিদির একজন সহায়ক বা পরামর্শদাতা হিসেবে বেশি ভূমিকা পালন করেছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক ওই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ, গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা পারমাণবিক আলোচনা সংক্রান্ত সর্বশেষ অগ্রগতি- প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানকে অবহিত করতে আরাঘচি ব্যর্থ হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ইরানের প্রেসিডেন্ট। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে তিনি বিদেশ মন্ত্রীকে বরখাস্ত করতে পারেন বলে ঘনিষ্ঠবৃত্তে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান।

এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। 

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিরতি কতদিন স্থায়ী থাকে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার আলোচনাও বেস্তে গিয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইঙ্গিত মিলেছে যে, কূটনৈতিক অগ্রগতির এই ধীরগতির নেপথ্যে নেতৃত্বের মধ্যকার এই বিভেদই অন্যতম প্রধান কারণ।

এর আগে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনেও ইরানের ক্ষমতার কাঠামোর অভ্যন্তরে মতবিরোধ বা সংঘাতের ইঙ্গিত মিলেছিল। গত মার্চ মাসে 'ইরান ইন্টারন্যাশনাল' জানিয়েছিল যে, চলমান সংঘাত, এর অর্থনৈতিক কুপ্রভাব এবং সাধারণ ইরানিদের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের বিষয়টি মোকাবিলার প্রশ্নে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এবং আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।

'ইজরায়েল হায়োম'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় অংশগ্রহণকারী ইরানি প্রতিনিধিদলের কাছে কোনও 'বাধ্যতামূলক প্রতিশ্রুতি' দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ক্ষমতা না থাকায় মার্কিন কর্মকর্তারা হতাশা প্রকাশ করেছিলেন। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, আলোচনা পুনরায় শুরু করার লক্ষ্যে ওয়াশিংটন দু'টি শর্ত আরোপ করেছিল, যার মধ্যে একটি শর্ত ছিল - যেকোনও চুক্তি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে ইরানের আলোচক বা প্রতিনিধিদলকে অবশ্যই আইআরজিসি-র পূর্ণ সমর্থন ও অনুমোদন নিয়ে আসতে হবে।

প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা (আহমাদ ভাহিদি এবং আলি আবদোল্লাহি) পাকিস্তানে অবস্থানরত ইরানি রাজনৈতিক প্রতিনিধিদলকে মার্কিন প্রস্তাবগুলোর সরাসরি কোনও জবাব দেওয়া থেকে বিরত রেখেছিলেন। এর প্রতিক্রিয়ায়, প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বদানকারী স্পিকার গালিবাফকে উদ্দেশ্য করে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান নাকি আহ্বান জানিয়েছিলেন যেন তিনি এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন এবং "ইরানকে সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক ধস থেকে রক্ষা করেন"। সাম্প্রতিক এই ঘটনাবলি তেহরানের অভ্যন্তরে একটি ব্যাপকতর ক্ষমতা-সংঘাত নিয়ে জল্পনা-কল্পনা জোরদার করে তুলেছে। এক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী বিভিন্ন গোষ্ঠী - কূটনীতি, সামরিক কৌশল এবং আঞ্চলিক সংঘাত ও অর্থনৈতিক চাপের মাসব্যাপী পরিস্থিতির পর পশ্চিমী বিশ্বের সঙ্গে ইরানের সম্পৃক্ততার মাত্রা কতটুকু হওয়া উচিত - সেসব বিষয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।