আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। ২০২২ সালের পর এই প্রথম অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২৬ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। এর মধ্যেই ভারত ও পাকিস্তানের পরিস্থিতির যে জমিন-আসমান ফারাক, তা সপাটে স্বীকার করে নিলেন খোদ পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলি পারভেজ মালিক।
পাক মন্ত্রীর ব্যাখ্যায় উঠে এসেছে দিল্লির কথা। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার জেরে তেল সরবরাহে টান পড়লেও ভারত তা অনায়াসে সামলে নিয়েছে। বিরাট অঙ্কের বিদেশি মুদ্রা এবং জরুরি তেল ভাণ্ডারের জোরেই যে তা সম্ভব হয়েছে এ কথাও জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, ঋণের দায়ে জর্জরিত পাকিস্তানের হাত-পা বাঁধা।
একটি সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী বলেন, "ভারতের হাতে শুধু ৬০০ আরব ডলারের বিদেশি মুদ্রাই নেই, তাদের বিপুল পরিমাণ তেল মজুত রাখার ক্ষমতাও আছে। সঙ্কটের সময় এই সঞ্চয়ই রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছে। তার ওপর ভারত আইএমএফ-এর শর্তে চলে না। তাই বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষের স্বার্থে কর কমিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা ওদের আছে।"
মালিক জানান, আইএমএফ-এর শর্ত মেনে পেট্রোল-ডিজেলের ওপর চড়া শুল্ক বসাতে বাধ্য হয়েছিল ইসলামাবাদ। কিন্তু সম্প্রতি তেলের দাম কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে।
এই পরিস্থিতি কোনওরকমে সামাল দিতে আইএমএফ-এর সঙ্গে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর পেট্রোলে লিটার প্রতি ৮০ টাকা শুল্ক কমাতে পেরেছে সরকার। পাকিস্তানে এখন পেট্রোলের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৩৭৮ টাকা। যদিও এক দিন আগেই বাজারের দোহাই দিয়ে দাম বাড়িয়েছিল শাহবাজ শরিফ সরকার।
বিপরীতে ভারতের ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা। কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্ক কমিয়ে দেশীয় বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রেখেছে মোদি সরকার। তেল সংস্থাগুলির লোকসান সামলাতে এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে ভারত তার বিশাল বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার ও আগে থেকে মজুত রাখা তেল ব্যবহার করছে।
আক্ষেপের সুরে পাক মন্ত্রী বলেন, "আমাদের নিজস্ব কোনও জরুরি তেল ভাণ্ডার নেই। যা আছে তা বড়জোর ৫-৭ দিনের রসদ। আর ভারতের কাছে ৬০-৭০ দিনের তেল মজুত থাকে। ওরা চাইলে একটা সই করেই বাজারে তেল ছেড়ে সঙ্কট মিটিয়ে দিতে পারে। আমাদের সেই ক্ষমতা নেই।"















