আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন বেড়েছে। সম্প্রতি সেই তালিকায় নয়া সংযোজন হিন্দু প্রৌঢ় খোকন দাস। গত বুধবার খোকনকে একদল উন্মত্ত জনতা ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপায় বলে অভিযোগ। একানেই শেষ নয়। মারধর, শারীরিক নিগ্রহের পর তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়! ঘটনায় বাকরুদ্ধ খোকন দাসের স্ত্রী সীমা। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভিকে সীমা বলেছেন, তিনি বুঝতে পারছেন না কেন তাঁর স্বামী খোকন চন্দ্র দাসকে এত নৃশংসভাবে আক্রমণ করা হল। এলাকায় তাঁদের কোনও শত্রু ছিল না বলেই দাবি সীমা দাসের।

সীমার কথায়, "কারোর সঙ্গে কোনও বিষয়ে আমাদের বিরোধ নেই। আমরা বুঝতে পারছি না কেন হঠাৎ আমার স্বামীকে নিসানা করা হল।" এই কথা বলেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

সীমা দাস বলেন, "আমরা হিন্দু। আমরা শুধু শান্তিতে বাঁচতে চাই। হামলাকারীরা মুসলিম এবং পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। আমি সরকারের কাছে সাহায্যের জন্য অনুরোধ করছি।"তিনি আরও জানান, হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা তাঁর স্বামী হামলাকারীদের মধ্যে দু'জনকে চিনতে পেরেছেন। সীমার দাবি, "এ কারণেই ওরা আমার স্বামীর মাথা ও মুখে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।"

এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান যে, চিকিৎসকরা খোকন দাসের একটি চোখে অস্ত্রোপচার করেছেন এবং তাঁকে শীঘ্রই আইসিইউ-তে স্থানান্তর করা হবে। বাংলাদেশে এনডিটিভি০র প্রতিনিধি যাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তাদের বেশিরভাগই পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ করেছেন। যা স্থানীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যেকার ভয়ের মাত্রার ইঙ্গিত।

খোকন দাস রাজধানী ঢাকা থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে তাঁর গ্রামে ওষুধের দোকান ও মোবাইল ব্যাঙ্কিংয়ের ব্যবসা করতেন। বুধবার দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে তাঁর ওপর এই হামলা হয়। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় তিনি একটি পুকুরে ঝাঁপ দিতে পেরেছিলেন। ফলে তাঁর মাথা ও মুখ আগুনে পুড়ে গেলেও শরীরের বাকি অংশটা ঠিক আছে। বীভৎস নির্যাতনের পর হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা প্রথমে খোখনকে কাছের একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়, পরে চিকিৎসকরা তাঁকে ঢাকার একটি বড় হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।

সীমা দাস ও খোকন দাসের তিন সন্তান রয়েছে। সন্তানদের মধ্যে একজন জানিয়েছে যে, তাদের বাবার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং শরীরকে স্থিতিশীল করতে অন্তত ছয় ইউনিট রক্ত ​​প্রয়োজন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের ভেতরে এনডিটিভিকে কথা বলার সময় খোখনের স্ত্রী সীমা দাস নিজের ছোট ছেলেকে শক্ত করে ধরে ছিলেন। তখন খোখনকে দেখতে হাসপাতালে ছিলেন গ্রামের কিছু লোক, যাদের মধ্যে একজন মুসলিম।

সেই মুসলিম ব্যক্তির দাবি, তিনি পরিবারটিকে সাহায্য করার জন্য যথাসাধ্য সবকিছু করছেন। তবে এই হামলাকে কোনবও সাম্প্রদায়িক বিষয় নয় বলেই মনে করেন তিনি। তবে, তাঁর দেশে হিন্দুদের ওপর হামলার ধরন সম্পর্কে প্রশ্ন করতেই তাঁর উত্তর ছিল, "তদন্ত চলছে। তারপরই সব বোঝা যাবে।"

মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে বাংলাদেশে হিন্দু-সহ সংখ্যালঘুদের ওপর হিংসা বেড়ে চলেছে, যা বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ তৈরি করছে। বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন এই হামলার নিন্দাও করেছে। ইউনূসের সঙ্গে কর্মরত আধিকারিকরা সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দিচ্ছেন বলে দাবি করলেও, বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন।

গত সপ্তাহে ভারত, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে "অবিরাম শত্রুতা" নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নয়াদিল্লি জোর দিয়ে বলেছে যে, তারা প্রতিবেশী দেশের চলমান পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকার বলেছে যে, তারা সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।