আজকাল ওয়েবডেস্ক: যুদ্ধের দামামা বাজছে পারস্য উপসাগরে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে কার্যত প্রাণ হাতে নিয়ে যাতায়াত করছে বাণিজ্যিক জাহাজগুলি। আজ সকালে ভারতের ‘শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া’-র দু’টি জাহাজ- ‘পুষ্পক’ এবং ‘পিরামল’ কোনওরকমে হরমুজ প্রণালী পার হতে পেরেছে। কিন্তু বিপদ কাটেনি। বরং সমুদ্রপথে ভারতের মতো দেশগুলির জ্বালানি আমদানিতে বড়সড় আশঙ্কার মেঘ ঘনিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, ইরান এখন আর কোনও তেলবাহী জাহাজকে যুদ্ধজাহাজের পাহারায় যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছে না। ফলে মাঝসমুদ্রে স্রেফ ভাগ্যের ওপর ভরসা করেই চলতে হচ্ছে ট্যাঙ্কারগুলোকে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, সেখানে এখন চরম বিশৃঙ্খলা। ইরান একেক সময় একেক রকম কথা বলছে, যার ফলে বিভ্রান্তি বাড়ছে। গত রাত থেকে আজ সকালের মধ্যে ভারতের জাহাজ দু’টি বেরিয়ে আসতে পারলেও, আরও তিনটি ট্যাঙ্কার ইরানের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকী গুজরাটের কান্ডলাগামী থাই জাহাজ ‘ময়ূরী নারী’-র গায়েও আঁচড় লেগেছে।
কেন এই সংঘাত? কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা, ইরান আসলে হরমুজ প্রণালীকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করে গোটা বিশ্বে জ্বালানি তেলের সংকট তৈরি করতে চাইছে। তাদের উদ্দেশ্য, এর মাধ্যমে আমেরিকা ও ইজরায়েলকে চাপে ফেলা। একইসঙ্গে যে সব আরব দেশে আমেরিকার ঘাঁটি রয়েছে, তাদেরও শায়েস্তা করতে চাইছে তেহরান। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সমুদ্রে অবাধ যাতায়াতের যে অধিকার রয়েছে, ইরান তা ক্রমাগত লঙ্ঘন করে চলেছে বলে অভিযোগ।
এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় গত বুধবার রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। ১৩৪টি দেশের সমর্থনে আনা এই প্রস্তাবে সাফ বলা হয়েছে, ইরানের এই হামলার মুখে দেশগুলোর আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার আছে। উল্লেখযোগ্য ভাবে, ভোটদান থেকে বিরত ছিল চিন ও রাশিয়া।
তথ্য বলছে, এ পর্যন্ত ১৯টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান। ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭ জন। শুধু ড্রোন নয়, এখন জলের তলা দিয়েও ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইল ছোঁড়া হচ্ছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ইরান আসলে চাইছে তেলের বাজার অস্থির করে বিশ্ব অর্থনীতিকে টালমাটাল করে দিতে।
একদিকে সৌদি আরবের মতো দেশগুলো ইরানের ওপর মনে মনে ফুঁসছে, অন্যদিকে জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কায় ঘুম উড়ছে বিশ্বের বড় বড় শক্তিগুলোর। আপাতত তেহরান আলোচনার টেবিলে না বসলে এই অচলাবস্থা কাটার কোনও লক্ষণ নেই।
