আজকাল ওয়েবডেস্ক: আমাদের সূর্য একটি ১১ বছরব্যাপী সৌর সর্বোচ্চ পর্যায় অতিক্রম করছে। যার অর্থ, এর জীবনচক্রে এটি একটি সর্বনিম্ন পর্যায়ও অতিক্রম করবে। ১৬৪৫ থেকে ১৭১৫ সাল পর্যন্ত এটি একটি বৃহৎ সৌর সর্বনিম্ন পর্যায় বা মন্ডার সর্বনিম্ন পর্যায়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছিল। ইংরেজ জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডওয়ার্ড ওয়াল্টার মন্ডার এই সময়কালটি আবিষ্কার করেন। তাঁর নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়। তবে, সূর্যের ম্লান হওয়ার কারণ উদ্ঘাটনের জন্য এই বিরতির আগের তথ্যের প্রয়োজন ছিল। জাপানের নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এমন তথ্য সংগ্রহের একটি উপায় খুঁজে পেয়েছেন যা মন্ডার সর্বনিম্ন পর্যায়টির ব্যাখ্যা দিতে পারে। 

জার্মান জ্যোতির্বিজ্ঞানী ইয়োহানেস কেপলার ১৬০৭ সালে একটি ক্যামেরা অবস্কিউরা ব্যবহার করে সৌরকলঙ্ক পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। বিজ্ঞানীরা এই তথ্যকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করছেন এটা উদ্ঘাটনের জন্য যে, বিগত ৭০ বছর ধরে সূর্যের কী ভুল হয়েছিল। ‘দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স’-এ প্রকাশিত নতুন গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে, কিংবদন্তি জ্যোতির্বিজ্ঞানী কেপলারের ১৬০৭ সালে আঁকা স্কেচগুলি সূর্যের ইতিহাস সম্পর্কে একটি দীর্ঘদিনের রহস্যের সমাধান করেছে।

মন্ডার মিনিমাম ছিল একটি অদ্ভুত ৭০ বছরের সময়কাল, যখন সৌরকলঙ্ক প্রায় সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল এবং ইউরোপ ‘ছোট বরফ যুগ’-এর অভিজ্ঞতা লাভ করেছিল। ১৬০৭ সালে কেপলার যখন সূর্য পর্যবেক্ষণ করেন, তখন তিনি একটি কালো দাগ দেখতে পান এবং তা লিপিবদ্ধ করেন। তিনি বিশ্বাস করেছিলেন যে তিনি যা দেখছেন তা হল ‘বুধের ট্রানজিট’। পরে তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি যা দেখছিলেন তা আসলে একটি সৌরকলঙ্ক সমষ্টি। তাঁর পিনহোল প্রজেক্টরটি একটি বৈজ্ঞানিক যন্ত্র দিয়ে তৈরি সৌরকলঙ্কের প্রাচীনতম পরিচিত চিত্রটি ধারণ করে। 

গবেষকরা স্পোরারের সূত্র ব্যবহার করে কেপলারের দাগগুলির মানচিত্র তৈরি করেন, যা একটি ১১ বছরের চক্রে সৌরকলঙ্কগুলি কীভাবে সূর্যের মেরু থেকে বিষুবরেখার দিকে স্থানান্তরিত হয় তা পর্যবেক্ষণ করে। তারা নির্ধারণ করেন যে দাগগুলি নিম্ন অক্ষাংশে ছিল, যার অর্থ হল ১৬০৭ সালে সূর্য একটি সৌরচক্রের একেবারে শেষ পর্যায়ে ছিল।

বিজ্ঞানীদের যা বোঝা দরকার ছিল তা হল, মন্ডার মিনিমামের আগের সৌরচক্রগুলি ‘স্বাভাবিক’ ছিল কিনা, নাকি অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত চক্রের মতো কোনও সুস্পষ্ট লক্ষণ ছিল, যা ‘শাটডাউন’-এর ইঙ্গিত দিচ্ছিল। কেপলারের তথ্য প্রমাণ করে যে, ১৬০৭ সালের কাছাকাছি সময়ে শেষ হওয়া চক্রটি একটি নিয়মিত দৈর্ঘ্যের ছিল। 

এই গবেষণার প্রধান লেখক হিশাশি হায়াকাওয়া বলেন, “কেপলারের গবেষণার ফলাফলকে সৌর কার্যকলাপের মডেল স্থাপন করে বিজ্ঞানীরা এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সূর্যের আচরণের পরিবর্তন ব্যাখ্যা করার জন্য তথ্য লাভ করেন, যা নিয়মিত সৌরচক্র থেকে গ্র্যান্ড সোলার মিনিমামে পরিবর্তনের সূচনা করে।” 

এই গবেষণা থেকে প্রাপ্ত ফল একটি গ্র্যান্ড সোলার মিনিমামের ‘সঙ্কেত’ সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে। গবেষণাটি নিশ্চিত করে যে, মন্ডার মিনিমামে প্রবেশের ঠিক আগে সূর্য স্বাভাবিক আচরণ করছিল। যা ইঙ্গিত দেয় যে এই গভীর সৌর সুপ্তাবস্থাগুলি চক্রের সময়কালের আগে কোনও পরিবর্তন ছাড়াই ঘটতে পারে।