আজকাল ওয়েবডেস্ক: পৃথিবীর তিন ভাগ জল, এক ভাগ স্থল। তবে গবেষণা বলছে, এই জলই শেষ হয়ে যাবে দ্রুত। স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর। যেখানে জলের অপর নাম জীবন, সেখানে জল যদি দ্রুত শেষ হতে থাকে? তাহলে প্রাণ বাঁচবে কীভাবে?

এই তথ্য উঠে এসেছে এক নতুন গবেষণায়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বিশ্বের জলে দ্রবীভূত অক্সিজেন দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে, যা জীবনধারণের প্রতিকূল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একদল বিজ্ঞানী এই গবেষণা চালিয়েছেন। তবে এই ভয়াবহ ঘটনার কারণ হিসেবে কী মনে করছেন তাঁরা? তাঁদের মতে, এই ঘটনার পিছনে দায়ী জলবায়ু পরিবর্তন এবং গ্রিণ হাউস গ্যাস। তাঁরা জানাচ্ছেন, গরম জল তুলনায় কম অক্সিজেন ধারণ করার ক্ষমতা রাখে। আর সমস্যা সেখানেই। কারণ, মানুষ সহ অন্যান্য প্রাণী যেমন বেঁচে থাকার জন্য বায়ুমণ্ডলের অক্সিজেনের উপর নির্ভরশীল, তেমনই জলে দ্রবীভূত অক্সিজেনের উপর নির্ভর করে থাকে জলজ প্রাণীকূল।

কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, অতিরিক্ত গ্রিণ হাউস গ্যাসের নির্গমণের কারণে জলের তাপমাত্রা বাড়ছে, সেই কারণে জলে দ্রবীভুত অক্সিজেন কমছে দিনে দিনে। এছাড়াও কৃষি কাজে ব্যবহৃত সার, শিল্পের বর্জ্য পদার্থ-সহ একাধিক দ্রব্য জলে মেশে, যেগুলি জলের কাঠামোর জন্য বিপজ্জনক। এটি জলজ-জীবনের একটি মৌলিক সমস্যা। গবেষকদের মতে প্ল্যানেটরি বাউন্ডারিজের মধ্যে জলজ ডিঅক্সিজেনেশনকে যুক্ত করা উচিত এবার। 

এখনও পর্যন্ত নয়টি প্ল্যানেটরি বাউন্ডারিজ রয়েছে। সেগুলি হল, সমুদ্রের অম্লকরণ, স্ট্রাটোস্ফিয়ারিক ওজোন হ্রাস, পরিবর্তিত জৈব-রাসায়নিক চক্র (ফসফরাস এবং নাইট্রোজেন), জীববৈচিত্র্য হ্রাসের হার, বিশ্বব্যাপী স্বাদু জলের ব্যবহার, ভূমি-ব্যবস্থার পরিবর্তন, এরোসল লোডিং এবং রাসায়নিক দূষণ।