আজকাল ওয়েবডেস্ক: বহু সময়ে, সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যায় নারীবিদ্বেষ মূলক পোস্ট। ঘৃণামূলক মন্তব্য মহিলাদের বিরুদ্ধে। এই বিষয়ে সুইডেনের এক স্টার্টআপের প্রতিষ্ঠাতার একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। আর ওই পোস্ট সামনে আসতেই, শুরু হয়েছে বিতর্ক, আলোচনাও।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোস্টটি করেন সুইডেনের ফেমটেম ভেঞ্চার স্টুডিও দয়া ভেঞ্চারের সিইও ম্যালিন ফ্রিথিওফসন। তিনি জ্যাক হয়েত (অনলাইনে অ্যাসমন গোল্ড নামে পরিচিত)-এর একটি পোস্ট এবং ওই পোস্টের মন্তব্যের স্ক্রিনশট শেয়ার করেন।
অ্যাসমন গোল্ডের ওই পোস্টে স্পষ্ট লেখা, ‘মেয়েরা নিজেদের যোগ্যতায় চাকরি পায় না। অন্যথায় মেয়েদের নাকি ছেলেদের সমান যোগ্যতাই নেই চাকুরিক্ষেত্রে। এআই এখন মেয়েদের আর সেই সুযোগ দেবে না। ফলে মেয়েরা মা এবং পতিতার ভূমিকায় ফিরতে পারবে।’ ওই পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক হারে। একাধিক মন্তব্য দেখে বহু নেটিজেন রে রে করে উঠছেন।
ম্যালিন তাঁর লিঙ্কডন-এ ওই স্ক্রিনশটগুলো পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘একজন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, যাঁর সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা আইসল্যান্ডের মোট জনসংখ্যার তিন গুণেরও বেশি, তিনি দু’দিন আগে এই পোস্টটি করেছেন। এবং দু’দিনের মধ্যে তিন লক্ষ ৪৭ হাজার ভিউ, ২২ হাজার লাইক এবং ৮৮০ জন শেয়ার করেছেন।’
তিনি আরও লেখেন, ‘ওঁর কথায় মেয়েদের দুটো মাত্র কাজ। এক মাতৃত্ব উপভোগ করা আর দুই পতিতা হিসাবে পুরুষের যৌন লালসা তৃপ্ত করা। এছাড়া তাঁরা আর যে কাজই করেন তা সমস্তই নাকি এআই দিয়ে সহজেই বদল করে দেওয়া যায়। আমি এই সমস্ত উড়ো মন্তব্যে ভীষণই ক্লান্ত। আমার স্রেফ একটাই প্রশ্ন, কেন এত সংখ্যায় পুরুষ, মহিলাদের ঘৃণা করে? সে দিক থেকে দেখতে গেলে তো গোটা দুনিয়াতে শুধু মা আর তার সন্তানই রয়েছেন। আর তো কেউ নেই। তারপরেও মেয়েদেরকে ঘৃণা করতে ইচ্ছে করে?’
তিনি তাঁর কাপশনে ‘রেপ অ্যাকাডেমি’-এর কথাও উল্লেখ করেন। গত মাসে একটি সিএনএন-এর তদন্তে একটি টেলিগ্রাম চ্যাটের তথ্য সামনে উঠে আসে। একটা গ্রুপ সেখানে শুধুমাত্র ফেব্রুয়ারি মাসে ছ’কোটি ২০ লক্ষ পুরুষ যুক্ত ছিলেন। এই গ্রুপে পুরুষেরা জানতে চান কীভাবে তাঁরা নিজের স্ত্রীকে ধর্ষণ করতে পারেন এবং সেই ধর্ষণের ভিডিও করে নানান ওয়েবসাইটে বিক্রি করতে পারেন। শুধু নিজের স্ত্রীকে ধর্ষণ করার কথা নয়, হতো নিজের বোন, শ্যালিকা এবং মাকেও ধর্ষণ করার কথাও উল্লিখিত হয়েছে সেখানে। এই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভাবা যায়! একটা মাত্র মাসে নাকি ছ’কোটি পুরুষ কীভাবে ধর্ষণ করবেন সেই আলোচনা করেছেন। এঁদের কাছে মেয়েরা শুধুই সন্তান জন্ম দেওয়ার আর পুরুষের যৌন লালসা তৃপ্ত করার মেশিনমাত্র।’
ম্যালিন ব্যক্তিজীবনের কথাও লিখেছেন। তিনি লেখেন, ‘একজন মহিলা রোজ রোজ এই একই ঘৃণার মুখোমুখি হচ্ছে রোজ। কেমন লাগে তাঁর কেউ ভেবে দেখে না। আমার উপর দিয়ে কী ঝড় বয়ে চলে, সে একমাত্র আমিই জানি। দিনের পর দিন ধর্ষণের হুমকি, প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিতে ছেয়ে থাকে আমার মেসেজ বক্স। এমনকি এআই দিয়ে আমার নগ্ন ছবিও তো ভাইরাল করা হয়। মাঝে মাঝে রাত্রে ঘুম ভেঙে যায় গণধর্ষণের শিকার হচ্ছি ভেবে।’ নিজের আতঙ্কের কথা স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।
আর একজনের মন্তব্য, ‘ভাবুন একবার, মানুষের কাছে এত সময়, যে পয়সা খরচ করে ইন্টারনেট ভর্তি, শুধু মেয়েদের চাকরি আছে বা কীভাবে চাকরি আছে এইসব নিয়ে চর্চা করবে তাই।’ একজন প্রশ্ন করছেন, ‘আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে, যে পুরুষেরা কি হীনমন্যতায় ভুগছেন? নাকি তাঁদের স্বভাবটাই এতখানি উগ্র? এখন বেশিরভাগ দেশে যুদ্ধ হচ্ছে না বলেই কি নিজেদের উগ্রতা প্রকাশ করার জায়গা পাচ্ছে না? তাই কি নারীবিদ্বেষের মোড়ক নিচ্ছে এই উগ্রতা?’
অপর একজন লিখেছেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত আমি বলতে পারছি না যে আমি অবাক হয়েছি এই পোস্টে। এখন তো অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি আমি। আমাকে শুধু এটুকু জানান, আপনার পোস্টের তলায় মন্তব্য করেছেন যাঁরা তাঁরা মূলত মেয়ে কেন?’ একজন সোজাসুজি বলেছেন, ‘তবুও ভাল এই পুরুষকে আগেভাগে চিহ্নিত করা গেল। এখন এঁকে এড়িয়ে চলা যাবে। কিন্তু যাঁরা মনে মনে এইটাই ভাবেন অথচ মুখে বলেন অন্যরকম, তাঁরা আসলে আরও বেশি ভয়ঙ্কর। আর যাঁদের মোটে এড়িয়ে চলা যায় না তাঁদের উপরে আরও বিরক্তিকর।’















