আজকাল ওয়েবডেস্ক: স্যাটেলাইটের তোলা ছবিতে স্পষ্ট দেখা গেছে সৌদি আরবের রাস তানুরা তেল শোধনাগারে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, ইরানের ড্রোন হামলার জেরেই এই ধ্বংসযজ্ঞ। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই তৈল ভাণ্ডারে হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও বিপজ্জনক মোড়ে নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাস তানুরা রিফাইনারিটি। যেটি পরিচালনা করে সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল সংস্থা সৌদি আরামকো। পারস্য উপসাগরের তীরে অবস্থিত এই রিফাইনারিটি প্রতিদিন মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করে এবং সৌদি আরবের তেল রপ্তানির মূল ভরকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। সেই রিফাইনারির গায়ে আগুনে পোড়া দাগের পাশাপাশি ড্রোন দিয়ে করা আঘাতের চিহ্ন ও অবকাঠামোর ক্ষতিগ্রস্ত অংশও ধরা পড়েছে স্যাটেলাইট ছবিতে।
ড্রোন হামলার পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং রিফাইনারির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করতে হয়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানা যায়নি। এখনও পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা বা রপ্তানির ওপর প্রভাব নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্রের দাবি, হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনগুলো ইরান থেকে পাঠানো হয়েছে। যদিও তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘটনায় কোনও রকম দায় স্বীকার করেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হামলা চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতকে সরাসরি কৌশলগত জ্বালানি অবকাঠামোর দিকে টেনে এনেছে। ফলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠতে পারে। এক শীর্ষ সরকারি সূত্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল বা সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের তরফ থেকে সামরিক প্রতিক্রিয়া আসতে পারে।
এই হামলা এমন এক সময় ঘটল, যখন বিশ্ব তেলের বাজার আগে থেকেই টালমাটাল। ইরান সংক্রান্ত উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে সামুদ্রিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। যদিও প্রণালী খোলা রয়েছে। তবুও, নিরাপত্তা উদ্বেগে বহু শিপিং সংস্থা কার্যক্রম সীমিত করেছে।
ড্রোন হামলার পর অপরিশোধিত তেলের দাম, গত কয়েক দশকে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। বাজারে উদ্বেগ ছড়িয়েছে, রাস তানুরার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হলে সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগতে পারে বলে।
রাস তানুরা রিফাইনারি বিশ্বের বৃহত্তম তেল শোধনাগার কমপ্লেক্সগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করে এটি আন্তর্জাতিক বাজারের তেল সরবরাহ নিশ্চিত করে। ফলে এখানে আঘাত মানে শুধু সৌদি আরব নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব বলে বিশেষজ্ঞের দাবি।
স্যাটেলাইট ছবিতে ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত হওয়ার পর বিশ্বের নজর রয়েছে কত দ্রুত মেরামত সম্ভব এবং এই ক্ষতির ফলে রপ্তানি কতটা ব্যাহত হবে সেই দিকে। পাশাপাশি প্রশ্ন ওঠছে এও যে, সংঘাত কি আরও বিস্তৃত হয়ে জ্বালানি সরবরাহের অন্যান্য ‘চেকপয়েন্ট’–এ ছড়িয়ে পড়বে? বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সংঘাত আরও তীব্র হয় এবং জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে থাকে, তবে তা বৈশ্বিক অর্থনীতির ভিত্তিকে নাড়িয়ে দিতে পারে।
ইরানি ড্রোন হামলায় রাস তানুরা রিফাইনারিতে ক্ষয়ক্ষতি শুধু একটি শিল্প স্থাপনায় আঘাত নয়, এটি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত। বিশ্বের জ্বালানি বাজার, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং ভূ–রাজনৈতিক ভারসাম্য, এই সবই এখন নির্ভর করছে পরিস্থিতি কত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায় তার ওপর।
