আজকাল ওয়েবডেস্ক: মাত্র ১৫ বছর বয়সেই ক্রিকেটবিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রে বৈভব সূর্যবংশী।
আইপিএল ২০২৬-এ রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ভারতের আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরের সাদা বলের দলে সুযোগ পেয়েছেন এই তরুণ ওপেনার।
তবে তাঁকে শুধুমাত্র টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞ হিসেবে দেখার প্রবণতাকে স্পষ্ট ভাষায় নাকচ করে দিয়েছেন বৈভব স্বয়ং।
রাজস্থান রয়্যালসের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের ম্যানেজার রোমি ভিন্দরের সঙ্গে আলাপচারিতায় বৈভব জানান, লাল বলের ক্রিকেটই তার ব্যাটিংয়ের মূল ভিত্তি। তিনি বলেন, ''অনেকেই জানতে চাইছেন ভবিষ্যতে আমি লাল বলের ক্রিকেট খেলতে চাই কি না। আমি সবসময়ই লাল বলে অনুশীলন করি এবং এখনও নিয়মিত খেলি। রাজ্যের হয়ে অনেক লাল বলের ম্যাচ খেলেছি।''
টি-টোয়েন্টিতে তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিং নিয়ে আলোচনা হলেও বৈভব মনে করেন, সেটি শুধুমাত্র ফরম্যাটের চাহিদা। তিনি বলেন, ''এই ফরম্যাটে আমি যেভাবে ব্যাট করি, তা টি-টোয়েন্টির প্রয়োজন অনুযায়ী। লাল বলের ক্রিকেট খেললে সেই ফরম্যাটের দাবি অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নেব। একইভাবে ওয়ানডেতেও পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলব। আমার স্বপ্ন তিনটি ফরম্যাটেই ভারতের হয়ে খেলা।''
তরুণ এই ব্যাটারের মন্তব্য এমন সময়ে এল, যখন ভারতের প্রাক্তন অফস্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন, টেস্ট বিশেষজ্ঞ চেতেশ্বর পূজারা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ডেল স্টেইন বৈভবের টেস্ট সম্ভাবনা নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের উচিত বৈভবকে দীর্ঘ ফরম্যাটের জন্যও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা।
বৈভবের উত্থান ছিল চোখ ধাঁধানো। ২০২৩-২৪ মরশুমে মাত্র ১২ বছর বয়সে বিহারের হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে অভিষেক ঘটে তাঁর। এরপর থেকেই একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছেন তিনি।
২০২৪ সালে চেন্নাইয়ে অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিরুদ্ধে মাত্র ৫৮ বলে শতরান করে যুব টেস্টে ভারতের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন বৈভব।
সেটি ছিল যুব টেস্ট ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি। এরপর ২০২৫ সালে ব্রিসবেনে একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ৮৬ বলে ১১৩ রানের ইনিংস খেলে নতুন নজির স্থাপন করেন তিনি।
১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ১০০ বলের কমে দু'টি যুব টেস্ট সেঞ্চুরি করা বিশ্বের প্রথম ক্রিকেটার হন বৈভব।
তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ভারতীয় দলে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন এই বাঁ হাতি ওপেনার। যদিও আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের শুরুটা হতে চলেছে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে, তবুও লাল বলের ক্রিকেটে নিজের দক্ষতা প্রমাণের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী তিনি।
আইপিএলের ছক্কা হাঁকানো ব্যাটার হিসেবে পরিচিতি পেলেও বৈভবের প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেট ও যুব টেস্টের পরিসংখ্যান বলছে, দীর্ঘ ফরম্যাটেও সফল হওয়ার মতো সব ধরনের দক্ষতাই তাঁর রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ভারতের এই নতুন বিস্ময়কর প্রতিভা ভবিষ্যতে তিন ফরম্যাটেই কতটা সাফল্যের ছাপ রাখতে পারেন।















