আজকাল ওয়েবডেস্ক: কুয়েতে ভেঙে পড়ল একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান। সোমবার কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে এই খবর জানানো হয়েছে। তবে দুর্ঘটনায় বিমানকর্মীদের কোনও প্রাণহানি ঘটেনি। ঠিক কতগুলি বিমান ভেঙে পড়েছে বা সেগুলি কোন মডেলের, সে বিষয়ে কুয়েত প্রশাসনের তরফে খোলসা করে কিছু জানানো হয়নি। দুর্ঘটনার কারণ নিয়েও ধোঁয়াশা।

কুয়েত সেনাবাহিনীর তরফে সোশ্যাল মিডিয়া 'এক্স' হ্যান্ডেলে জানানো হয়েছে, “প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে আজ সকালে বেশ কিছু মার্কিন সামরিক বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। তবে বিমানে থাকা সমস্ত ক্রু সদস্য সুরক্ষিত আছেন।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দ্রুততার সঙ্গে বিমানকর্মীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। পাশাপাশি প্রত্যেকের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চলছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা। যুদ্ধের আবহে এই দুর্ঘটনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সোমবার সকালেই ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ইরানি সংবাদমাধ্যম 'প্রেস টিভি'-র প্রচার করা ফুটেজে দেখা গিয়েছে, একটি মার্কিন F-15E Strike Eagle বনবন করে ঘুরতে ঘুরতে মরুভূমির বুকে আছড়ে পড়ছে। অন্য একটি ক্লিপে দেখা যায়, বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ার আগেই চালকরা প্যারাশুট নিয়ে বেরিয়ে আসছেন।

সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। একাধিক ছবিতে দেখা গিয়েছে, প্যারাশুটে করে নামার পর একজন পাইলট মরুভূমির বালিতে বসে আছেন। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা নিয়ে আমেরিকা বা কুয়েত- কোনও দেশই এখনও পর্যন্ত সরকারি সিলমোহর দেয়নি। বিমানটি কোনও বিশেষ সামরিক অভিযানে যাচ্ছিল নাকি সাধারণ টহল দিচ্ছিল, তা-ও এখনও স্পষ্ট নয়।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের কাছ থেকে কালো ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে আকাশে উঠতে দেখা যায়। খবর পাওয়া মাত্রই সেখানে দমকল ও অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছয়। দূতাবাস চত্বরে কোনও সরাসরি হামলা হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য মেলেনি।

একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে মার্কিন নাগরিকদের বাড়ির বাইরে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে দূতাবাসের কর্মীদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইরানের মাটিতে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ অভিযানের পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই-সহ একাধিক শীর্ষ নেতার মৃত্যু হয়েছে বলে খবর।

পাল্টা ইরানও লাগাতার ড্রোন ও মিসাইল হামলা শুরু করেছে। কুয়েত, বাহরিন ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর আকাশসীমা দিয়ে উড়ে আসা একের পর এক ইরানি মিসাইল রুখে দিচ্ছে মার্কিন ডিফেন্স সিস্টেম। দশকব্যাপী চলা 'প্রচ্ছন্ন লড়াই' এখন সরাসরি যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। পারস্য উপসাগরে এখন কেবলই বারুদের গন্ধ।