আজকাল ওয়েবডেস্ক: যুদ্ধক্ষেত্র, দুর্ঘটনা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয় অতিরিক্ত রক্তপাতের কারণে। অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে দেরি হয়, অস্ত্রোপচারের সুযোগ থাকে না, আর কয়েক মিনিটের মধ্যেই রোগীর শরীর রক্তশূন্য হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে আহতকে বাঁচানোর জন্য দ্রুত রক্তপাত বন্ধ করা সবচেয়ে জরুরি। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা ঠিক সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে তৈরি করেছেন এক যুগান্তকারী স্প্রে-অন পাউডার, যা মাত্র এক সেকেন্ডে রক্তপাত থামিয়ে দিতে সক্ষম। এই উদ্ভাবন ভবিষ্যতে যুদ্ধক্ষেত্র, সড়ক দুর্ঘটনা ও জরুরি চিকিৎসায় নতুন যুগের সূচনা করতে পারে বলে দাবি গবেষকদের।
নতুন এই পাউডার প্রযুক্তিকে গবেষকেরা বলছেন “লাইফ-সেভিং হেমোস্ট্যাটিক স্প্রে”। এটি দেখতে সাধারণ পাউডারের মতো হলেও এতে রয়েছে বায়ো-কম্প্যাটিবল পলিমার ও মাইক্রো-পার্টিকল, যা রক্তের সংস্পর্শে এলেই তৎক্ষণাৎ জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া শুরু করে। স্প্রে করার সঙ্গে সঙ্গেই ক্ষতের ওপর একটি পাতলা কিন্তু শক্ত আবরণ তৈরি হয়, যা রক্তের প্রবাহ বন্ধ করে দেয়। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল—পুরো প্রক্রিয়াটি ঘটে মাত্র এক সেকেন্ডের মধ্যে, যেখানে প্রচলিত ব্যান্ডেজ বা কমপ্রেশন পদ্ধতিতে সময় লাগে কয়েক মিনিটেরও বেশি।
গবেষকদের মতে, এই স্প্রে-অন পাউডারের প্রধান সুবিধা হল ব্যবহারের সহজতা। এতে চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত মেডিক্যাল টিমের প্রয়োজন নেই। সাধারণ মানুষও জরুরি মুহূর্তে এটি ব্যবহার করতে পারবেন। বিশেষ করে যুদ্ধক্ষেত্রে যেখানে গোলাগুলির মধ্যে আহত সৈনিকের শরীর থেকে দ্রুত রক্তপাত বন্ধ করা সব সময় সম্ভব হয় না, সেখানে এই প্রযুক্তি গেম-চেঞ্জার হতে পারে। পাউডারটি ছোট, সহজে বহনযোগ্য এবং অত্যন্ত হালকা, ফলে মেডিক্যাল টিম, সেনা বা দুর্যোগ মোকাবিলা কর্মীদের জন্য এটি বিরাট রিলিফ।
এই উদ্ভাবনের পিছনে থাকা বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রাণী-পরীক্ষায় পাউডারটি অত্যন্ত সফলভাবে কাজ করেছে এবং কোনও জটিলতা তৈরি করেনি। পরবর্তী ধাপে মানবদেহে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। সব ঠিক থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এটি বাজারে আসতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই স্প্রে শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই নয়, সাধারণ হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স, এমনকি গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও জীবন বাঁচাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। দুর্ঘটনার পর সঠিক সময়ে রক্তপাত বন্ধ করতে পারলে রোগীকে স্থিতিশীল রাখা সহজ হয় এবং পরবর্তী চিকিৎসায় বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।
সুতরাং, এক সেকেন্ডে রক্তপাত বন্ধ করা এই স্প্রে-অন পাউডার সত্যিই ভবিষ্যতের ‘লাইফ সেভিং’ প্রযুক্তি হয়ে উঠতে পারে—যা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে শুরু করে আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও প্রাণ বাঁচাবে, আর চিকিৎসা সেবায় এনে দেবে এক নতুন বিপ্লব।
