আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলাদেশে নির্মম অত্যাচারের শিকার ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা। ব্রিটেনের আইনপ্রণেতা বব ব্ল্যাকম্যান বাংলাদেশের ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে হিন্দুদের ওপর হিংসা বাড়ছে। হিন্দুদের রাস্তায় হত্যা করা হচ্ছে, বাড়িঘর ও মন্দির পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বক্তৃতাকালে ব্ল্যাকম্যান সতর্ক করে বলেন যে, বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন, কিন্তু তার আগে সেই দেশের গণতান্ত্রিক অবস্থা উদ্বেগের। নির্বাচন কতটা অবাধ হবে তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে।
জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সেই বিষয়টি তুলে ধরে ব্রিটিশ সাংসদ ব্ল্যাকম্যান বলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের একটি প্রধান রাজনৈতিক দল। কিন্তু সেই দলকেই নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ইসলামিক চরমপন্থীরা দেশের সংবিধানে পরিবর্তন আনার জন্য একটি গণভোটের দাবি জানিয়েছে।
ব্ল্যাকম্যান যা বলেছেন...
বব ব্ল্যাকম্যান বলেন, "ছুটির আগে মুলতবি বিতর্কে আমি বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি, এবং হাউস অফ কমন্সের নেতা যথার্থই সেখানকার ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে বিদেশমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখেছেন। হিন্দু পুরুষদের রাস্তায় হত্যা করা হচ্ছে; তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে; মন্দির পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে; এবং অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুরাও একই ধরনের পরিণতির শিকার হচ্ছেন।"
ব্ল্যাকম্যান আরও বলেন, "আগামী মাসে তথাকথিত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের একটি প্রধান রাজনৈতিক দল হওয়া সত্ত্বেও আওয়ামী লীগকে সেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যদিও জনমত সমীক্ষায় তাদের সমর্থন প্রায় ৩০ শতাংশ। একইভাবে, ইসলামিক চরমপন্থীরা একটি গণভোটের আহ্বান জানিয়েছে। যা বাংলাদেশের সংবিধানকে চিরতরে পরিবর্তন করে দিতে পারে।"
ব্রিটিশ সংসদ সদস্য সেদেশের বিদেশমন্ত্রীর কাছে একটি বিবৃতিও দাবি করেছেন, যেখানে উল্লেখ থাকবে যে ব্রিটেন সরকার বাংলাদেশ জুড়ে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা এবং দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিতে (বাংলাদেশ) অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য কী পদক্ষেপ নেবে?
গত সপ্তাহে, চারজন ব্রিটিশ সংসদ সদস্য ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে, সেদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর যে কায়দায় নিষেধাজ্ঞার চাপিয়েছে তা গভীর উদ্বেগের। তাঁরা বলেছেন, এই পদক্ষেপটি রাষ্ট্রসংঘ, ব্রিটেন এবং দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির অন্যান্য দীর্ঘদিনের 'বন্ধু'দের নির্দেশকে উপেক্ষা করে।
যৌথ বিবৃতিতে, বব ব্ল্যাকম্যান, জিম শ্যানন, জাস আথওয়াল এবং ক্রিস ল-সহ বিভিন্ন দলের ব্রিটিশ আইনপ্রণেতারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, ইউনূসের নেতৃত্বাধীন "অনির্বাচিত" অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাংলাদেশি ভোটারদের ওপর এমন বিধিনিষেধ আরোপ করা উচিত হয়নি। সেই সঙ্গেই তাঁরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে বাদ দিয়ে কোনও নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক বলা যায় না।
