আজকাল ওয়েবডেস্ক: মানুষের বার্ধক্য কি সত্যিই থামানো বা উল্টে দেওয়া সম্ভব? এই প্রশ্ন বহু দশক ধরেই বিজ্ঞানীদের কৌতূহল জাগিয়ে রেখেছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এমন এক নতুন পদ্ধতির কথা জানাচ্ছেন, যা মানব কোষের বয়স “পিছিয়ে” দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। যদিও এটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে, তবুও গবেষণাটি বার্ধক্য ও বয়সজনিত রোগের চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে।


এই নতুন পদ্ধতির মূল ধারণা হল—কোষের জৈবিক বয়সকে রিসেট করা। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের কোষে নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটে। ডিএনএ ক্ষয়, জিনের কার্যকারিতায় পরিবর্তন, কোষ বিভাজনের গতি কমে যাওয়া—এসব মিলেই শরীরের বার্ধক্য প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন, যদি কোষের ভেতরের কিছু “এপিজেনেটিক” সংকেত আংশিকভাবে পরিবর্তন করা যায়, তাহলে কোষ আবার তরুণ অবস্থার মতো আচরণ করতে শুরু করে।


গবেষণায় ব্যবহৃত নতুন কৌশলটি সম্পূর্ণ দেহকে নতুন করে তৈরি করার চেষ্টা নয়। বরং নির্দিষ্ট জিন ও প্রোটিনকে সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় করে কোষকে তার আগের অবস্থায় ফেরানোর প্রচেষ্টা চলছে। একে অনেক বিজ্ঞানী “আংশিক রি-প্রোগ্রামিং” বলছেন। এতে কোষের পরিচয় নষ্ট না করে শুধু বয়সজনিত ক্ষয় কমানোর চেষ্টা করা হয়।


প্রাথমিক পরীক্ষাগুলো এখনো প্রাণীর ওপর সীমাবদ্ধ। গবেষণাগারে ইঁদুরের ওপর চালানো পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই পদ্ধতিতে কিছু টিস্যুর কার্যকারিতা উন্নত হয়েছে এবং বয়সজনিত ক্ষতির লক্ষণ আংশিকভাবে কমেছে। চোখ, পেশি ও স্নায়ুর মতো টিস্যুতে ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে বলে গবেষকরা জানিয়েছেন।


তবে মানবদেহে প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা অত্যন্ত সতর্ক। কারণ, কোষের জিনগত প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করলে ক্যানসারের ঝুঁকিসহ নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণই এখন গবেষণার প্রধান চ্যালেঞ্জ।


বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গবেষণার মূল লক্ষ্য “অমরত্ব” নয়। বরং বয়সজনিত রোগ—যেমন আলঝেইমার, পারকিনসন, হৃদ্‌রোগ বা পেশিশক্তি হ্রাস—দেরিতে শুরু করা বা তাদের তীব্রতা কমানো। যদি কোষকে কিছুটা তরুণ রাখা যায়, তাহলে মানুষের সুস্থ জীবনের সময়সীমা বা “হেলথস্প্যান” বাড়ানো সম্ভব হতে পারে।


এখনই মানব বার্ধক্য উল্টে দেওয়ার দাবি করা যাবে না। তবে বিজ্ঞানীরা যে পথে এগোচ্ছেন, তা প্রমাণ করছে—বার্ধক্য আর শুধুই অনিবার্য নিয়তি হিসেবে দেখা হচ্ছে না। ভবিষ্যতে বয়সের সঙ্গে লড়াই করার ধারণাই হয়তো আমূল বদলে যেতে পারে।