আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় গুরুতর আহত ইরানের নয়া শীর্ষ নেতা মোজতবা খামেনেই। এখনও তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর জনসমক্ষে একবারও তাঁকে দেখা যায়নি। 

 

এই আবহেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট একাধিকবার সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, মোজতবা খামেনেই আদৌ বেঁচে আছেন তো? যা ঘিরে জল্পনাও তুঙ্গে। ইরানের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, মোজতবা খামেনেই আহত হয়েছেন। কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থার সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। 

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগছি জানিয়েছেন, ইরানের নয়া শীর্ষ নেতা মোজতবা খামেনেইর বর্তমানে কোনও সমস্যাই নেই। তিনি এক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, 'সদ্য জাতির উদ্দেশে বক্তব্য পেশ করেছেন নয়া শীর্ষ নেতা। পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নিজের দায়িত্ব তিনি পালন করবেন।' 

 

এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, 'আদৌ মোজতবা বেঁচে আছেন কিনা জানিনা। আমার মনে হয়, উনি বেঁচে আছেন, তবে গুরুতর জখম হয়েছেন।' 

 

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনেইকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। আর এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই নানা চর্চা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যে বিমান হামলায় মোজতবার বাবা ইরানের প্রাক্তন শীর্ষ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছিলেন, সেই একই হামলায় মোজতবাও সম্ভবত গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। ‘দ্য সান’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে ইজরায়েল ও মার্কিন যৌথ হামলায় গুরুতরভাবে আহত হওয়ার পর ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা আলি খামেনেই বর্তমানে কোমায় আচ্ছন্ন এবং তিনি তাঁর অন্তত একটি পা হারিয়েছেন।

 

ওই সংবাদমাধ্যমটি যেসব সূত্র উদ্ধৃত করেছে, তারা দাবি করেছে যে খামেনেই “অন্তত একটি পা হারিয়েছেন এবং তাঁর পাকস্থলী কিংবা যকৃতেও (লিভার) গুরুতর আঘাত লেগেছে।” প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তেহরানের ‘সিনা ইউনিভার্সিটি হসপিটাল’-এ কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মোজতবার চিকিৎসা চলছে। 

 

ইরানি কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন যে, ওই হামলায় মোজতবা খামেনেই আহত হয়েছিলেন, তবে তিনি এখন নিরাপদেই আছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। তেহরানের সাইপ্রাসে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন যে, ওই হামলায় মোজতবা আহত হয়েছিলেন, একইসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন যে, ওই ভয়াবহ বোমাবর্ষণ থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়ায় মোজতবা অত্যন্ত ভাগ্যবান।