আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে মেরে ফেলার প্রতিশ্রুতি দিল ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস। রবিবার নয়া বিবৃতিতে তারা জানাল, যদি এখনও নেতানিয়াহু বেঁচে থাকেন, তাহলে তাঁকে খুঁজে, প্রাণে মারার প্রতিজ্ঞা করেছে তারা। 

 

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ১৬তম দিন। এখনও দফায় দফায় ইরানের সঙ্গে ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি নেতানিয়াহুকে নিয়েও সমাজমাধ্যমে নতুন জল্পনা ছড়িয়েছে। আদৌ তিনি বেঁচে আছেন কিনা, সেই প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরা। যদি ইজরায়েলের প্রশাসন জানিয়েছে, নেতানিয়াহু জীবিত ও সুস্থ আছেন। 

 

জল্পনা এও ছড়িয়েছিল, ইরানের হামলার আতঙ্কে পরিবার নিয়ে নেতানিয়াহু ইজরায়েল ছেড়েই পালিয়ে গেছেন। এদিন ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস জানিয়েছে, "যদি এখনও শিশুহত্যাকারী এই অপরাধী এখনও বেঁচে থাকেন, তাহলে আমরা সব বাহিনী নিয়ে তাঁকে খুঁজে, মেরে ফেলবই।" 

 

গত ১২ মার্চ সোশ্যাল মিডিয়ায় নেতানিয়াহুর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল। যা দেখার পরেই তাঁর জীবিত থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নেটিজেনরা। কেন? সেই ভিডিওতে নেতানিয়াহুর এক হাতে ছ'টি আঙুল দেখা গিয়েছিল। অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এরপরই নেতানিয়াহুর দপ্তর জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী সুস্থ আছেন। 

 

রবিবার ইরান গার্ডের জনসংযোগ দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতি অনুযায়ী, ইরানের শিল্প শহরগুলোতে শ্রমিকদের মৃত্যুর ‘প্রতিশোধের প্রথম ধাপ’ হিসেবে তারা নতুন করে ‘আমেরিকান-ইজরায়েলি সন্ত্রাসী অপরাধীদের’ লক্ষ্যবস্তু করেছে। আইআরজিসি জানায়, তাদের বাহিনী ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর ৫২তম ধাপের অংশ হিসেবে একটি সম্মিলিত অভিযান চালিয়েছে, যেখানে ইজরায়েলের বিভিন্ন স্থান ও এই অঞ্চলের তিনটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে।

 

বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, ইরান গার্ডের ছোড়া ভারী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তেল আবিবের শিল্পাঞ্চলগুলোতে আঘাত হেনেছে। অ্যাম্বু্ল্যান্সের সাইরেনের শব্দ ও ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষের ক্রমবর্ধমান হতাহতের খবর এই হামলার প্রভাবেরই প্রতিফলন।

 

আইআরজিসি আরও জানায়, মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন অবস্থানকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এরবিলের আল-হারির বিমান ঘাঁটি, কুয়েতের আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটি এবং ক্যাম্প আরিফজান। এসব হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।