আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বৃহস্পতিবার ইরানকে কড়া বার্তা দিয়ে বলেছেন, খুব শিগগিরই আবার “সবচেয়ে বড় আঘাত” হানা হবে। তাঁর দাবি, উপসাগরীয় অঞ্চলের এই সংঘাত শেষ পর্যন্ত আমেরিকার শর্তেই শেষ হবে।


চলতি সংঘাত নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হেগসেথ জানান, ইরানকে ঘিরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য প্রথম দিন থেকেই অপরিবর্তিত রয়েছে এবং সেই লক্ষ্য পূরণের দিকেই তারা এগোচ্ছে। তাঁর কথায়, “আমাদের পরিকল্পনা ঠিক পথেই রয়েছে, আমরা যা করতে চেয়েছি, সেটাই করছি।”


মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব আরও বলেন, এই অভিযানে নিহত মার্কিন সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার মিশন শেষ করবেই। নিহত সেনাদের পরিবারের সদস্যরাও প্রশাসনের কাছে এই মিশন সম্পূর্ণ করার আহ্বান জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। “আমরা এই লড়াই শেষ করবই। যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানানো আমাদের দায়িত্ব,” ।


যুদ্ধক্ষেত্রে ইরানের সামরিক ক্ষমতার ওপর বড় আঘাত হানা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বিশেষ করে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব। তাঁর মতে, এই হামলার ফলে ইরানের প্রতিরক্ষা কাঠামোয় বড় ধাক্কা লেগেছে।


এর পাশাপাশি, ইরানের নৌ-ক্ষমতা নিয়েও বিস্ফোরক দাবি করেছেন হেগসেথ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের ১১টি সাবমেরিনই ধ্বংস হয়ে গেছে। যদিও এই দাবির স্বপক্ষে স্বাধীনভাবে কোনও নিশ্চিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি, তবুও মার্কিন প্রশাসনের এই বক্তব্য পরিস্থিতির উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।


ইরানের সামরিক নেতৃত্বকে নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি। হেগসেথ বলেন, এখন আইআরজিসির শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা মানে “অস্থায়ী চাকরি”, যা থেকে বোঝা যায়, মার্কিন হামলার লক্ষ্যবস্তুতে শীর্ষ কমান্ডাররাও রয়েছেন।


পাশাপাশি, তিনি পুনরায় স্পষ্ট করে দেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযান চালিয়ে যাবে। 


এই মন্তব্যে স্পষ্ট, ইরান-আমেরিকা সংঘাত আরও তীব্র আকার নিতে পারে। আন্তর্জাতিক মহলে ইতিমধ্যেই এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, কারণ এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা বিশ্বের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

 

&t=4s
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের কড়া অবস্থান এবং পাল্টা হুঁশিয়ারি মধ্য এশিয়াতে অস্থিরতা আরও বাড়াতে পারে। ফলে আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে গোটা বিশ্বের।