আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাকিস্তান হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি নতুন বিমানঘাঁটি স্থাপন করছে। জিওয়ানি বিমানঘাঁটিটি পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশের গ্বাদার জেলায় অবস্থিত। এটি একটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি, যদিও এটি দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় ছিল। তবে, হরমুজ প্রণালীতে চলতে থাকা সঙ্কটের মধ্যে এই বিমানঘাঁটিটির আধুনিকীকরণের কাজ শুরু করার চেষ্টা করছে পাকিস্তান।
জিওয়ানি বিমানঘাঁটি ওমান উপসাগরের কাছে অবস্থিত। এটি ইরান সীমান্ত থেকে মাত্র ৩৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে যাওয়া সামুদ্রিক নৌপথের নৈকট্যের কারণে এই অঞ্চলটি গুরুত্বপূর্ণ। জিওয়ানি বিমানঘাঁটি গ্বাদার থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জিওয়ানি বিমানঘাঁটি থেকে পাকিস্তান সংযুক্ত আরব আমিরশাহি-সহ উপসাগরীয় দেশগুলির ওপর নজরদারি করতে পারবে। এছাড়াও, যে কোনও সম্ভাব্য সংঘাতের সময় পাকিস্তান এই অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে অঞ্চলের সামুদ্রিক কার্যকলাপকে প্রভাবিত করতে পারবে।
জিওয়ানি বিমানঘাঁটি এবং ইরানের চাবাহার বন্দরের মধ্যে আকাশপথের দূরত্ব প্রায় ১০০-১২০ কিলোমিটার। উভয় স্থানই মাকরান উপকূলের কাছে ওমান উপসাগরের নিকটবর্তী স্থানে অবস্থিত। ভারত বর্তমানে চাবাহার বন্দরে শহিদ বেহেশতি টার্মিনাল নির্মাণ করছে। এই স্থাপনাটি ইরানের একমাত্র গভীর জলের বন্দর হিসেবে কাজ করে।
ভারতের জন্য এই বন্দরের তাৎপর্য হল, এটি পাকিস্তানকে পাশ কাটিয়ে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় প্রবেশের সুযোগ করে দিয়ে বাণিজ্য ও সংযোগ বৃদ্ধি করতে পারে। ফলস্বরূপ, পাকিস্তান চাইলে এই বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে চাবাহারে ভারতের কার্যকলাপের উপর কড়া নজর রাখতে পারে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রবাহিনী জিওয়ানি বিমানঘাঁটিটিকে একটি এয়ারফিল্ড হিসেবে ব্যবহার করেছিল। এখানে প্রায় ১,৭০০ মিটার (৫,৫০০ ফুট) দীর্ঘ একটি রানওয়ে রয়েছে। বর্তমানে এখানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একটি নৌঘাঁটি ও একটি এয়ারফিল্ড রয়েছে। নানা প্রতিবেদন অনুসারে, চীন জিওয়ানি বিমানঘাঁটিতে পাকিস্তানের জন্য একটি সামরিক ঘাঁটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে।















