আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে কারাকাস থেকে মার্কিন সেনা অভিযানে আটক করার ঘটনাকে প্রকাশ্যে স্বাগত জানালেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে। শনিবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত অথচ তাৎপর্যপূর্ণ পোস্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে স্পষ্টভাবে অবস্থান নেন।
এক্স-এ পোস্ট করে মিলে লেখেন, “স্বাধীনতা এগিয়ে চলেছে। স্বাধীনতা দীর্ঘজীবী হোক যা-ই হোক না কেন!”, এই বক্তব্যের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক নাটকীয় রাজনৈতিক পালাবদলকে তিনি কার্যত সমর্থন জানান।
এর আগে শনিবারই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় একটি “বৃহৎ সামরিক অভিযানে” নেমে নিকোলাস মাদুরোকে আটক করেছে। ট্রাম্পের সামাজিক মাধ্যম পোস্ট অনুযায়ী, কারাকাসে একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যেই মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে দেশ থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
পরে আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম LN+-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাভিয়ের মিলে আরও কড়া ভাষায় মাদুরোর পতনকে উদ্যাপন করেন। তিনি বলেন, “এটি এক স্বৈরাচারী, সন্ত্রাসবাদী ও মাদক-চক্রের সঙ্গে জড়িত নেতার পতন যিনি যেকোনো মূল্যে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চেয়েছিলেন।”
মিলের অভিযোগ, মাদুরো অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে রেখেছিলেন এবং একের পর এক নির্বাচন কারচুপি করেছিলেন। তাঁর কথায়,
“মাদুরো একজন ক্ষমতা দখলকারী। তিনি নির্বাচন জালিয়াতি করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে চেয়েছিলেন। আজ একজন স্বৈরাচারের পতন হয়েছে।”
মিলে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করে বলেন, “মাদুরো একজন নার্কো-সন্ত্রাসবাদী। তাঁর স্পেনের পোদেমোস, আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া, মেক্সিকো ও বলিভিয়ার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের ইতিহাস রয়েছে। তাঁর ইরান, হিজবুল্লাহ, হামাস এবং ফার্কের বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে যোগাযোগ ছিল।”
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের দাবি, মাদুরো অর্থ পাচার করেছেন এবং ১৯৭০-এর দশকে কিউবা যেভাবে লাতিন আমেরিকায় কমিউনিজম ও সশস্ত্র আন্দোলন রপ্তানি করেছিল, মাদুরোও একই ভূমিকা পালন করেছেন। “এটি মুক্ত বিশ্বের জন্য অসাধারণ খবর,” বলেন মিলে।
শুধু প্রেসিডেন্ট মিলে নন, তাঁর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্ররাও এই ঘটনাকে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেছেন। আর্জেন্টিনার সংসদ সদস্য ও প্রাক্তন নিরাপত্তামন্ত্রী প্যাট্রিসিয়া বুলরিচ বলেন, “আজ একটি ঐতিহাসিক দিন। লাতিন আমেরিকায় শান্তি ও স্বাধীনতা আসছে।”
ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে মিলে বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের সমর্থক। গত মাসে এক মারকোসুর শীর্ষ সম্মেলনে তিনি বলেন, “ভেনেজুয়েলার জনগণকে মুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ডোনাল্ড ট্রাম্প যে চাপ সৃষ্টি করছেন, আর্জেন্টিনা তা স্বাগত জানায়। এই বিষয়ে নরম অবস্থানের সময় শেষ।”
এর আগেও মিলে কারাকাসের সরকারকে “অমানবিক ও জঘন্য স্বৈরতন্ত্র” বলে আখ্যা দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, “ভেনেজুয়েলার কমিউনিজম না থাকলে পৃথিবী আরও ভালো জায়গা হতো।”
আর্জেন্টিনা সেই দেশগুলির অন্যতম যারা নিকোলাস মাদুরোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। মিলে প্রকাশ্যে বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছেন।
চলতি বছরের শুরুতে মিলে নরওয়েতে গিয়ে এক অনুষ্ঠানে অংশ নেন, যেখানে মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়। এই সফরও ভেনেজুয়েলার বিরোধী আন্দোলনের প্রতি আর্জেন্টিনার বর্তমান সরকারের দৃঢ় সমর্থনের প্রতীক বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরো আটক এবং আর্জেন্টিনার এমন প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া লাতিন আমেরিকার ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন ও অস্থির অধ্যায়ের সূচনা করল।
