আজকাল ওয়েবডেস্ক: খামেনেই। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। সংঘর্ষের আবহে, মৃত্যু হয়েছে তাঁর। খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর একাংশের উল্লাস আবার একাংশের ক্ষোভ।
এই পরিস্থিতিতে একাধিক তথ্য উঠে আসছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, খামেনেইকে ফাঁদে ফেলার জন্য, দীর্ঘদিন ধরে তেহরানের ক্যামেরাও হ্যাকড করে নিয়েছিল ইজরায়েল। সেখানে গতিবিধির উপর চলত নজরদারি।
শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিন ধরে সেখানে নির্দিষ্ট ব্যক্তিরাও নজরদারি চালিয়েছেন। কারণ লক্ষ্য যখন খামেনেই, তখন সেই লক্ষ্যে প্রথমবারেই পৌঁছতে চেয়েছিল ইজরায়েল, মার্কিন মুলুক।
এর মাঝে উঠে আসছে আরও এক প্রসঙ্গ। খামেনেই হত্যা-হুমকি পাওয়ার পরেও, কেন খামেনেই আত্মগোপন করেননি। কেন হামলার সময়েও তিনি নিজের কার্যালয়ে বসে কাজ করছিলেন?
খামেনেই প্রসঙ্গে উঠে আসছে হাসান নাসরুল্লাহর নাম। যিনি ২০২৪ সালে বৈরুতে নিহত হন। কিন্তু তার আগে বহু বছর তিনি বাঙ্কারে লুকিয়ে ছিলেন। কিন্তু খামেনেই আশঙ্কা জেনেও তা করেননি।
তিনি হত্যার সম্ভাবনা নিয়ে চিন্তা করেছিলেন, তবুও যুদ্ধের সময় তিনি সতর্কতা অবলম্বন করেছিলেন। এফটিকে সাক্ষাৎকার নেওয়া একজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, খামেনেই যদি কোনও এক বাঙ্কারে লুকিয়ে থাকতেন, তাহলে ইজরায়েল কখনওই তাঁর নাগাল পেত না।
কিন্তু খামেনেই কখনও লুকিয়ে থাকতে চাননি। খামেনেই চেয়েছিলেন, ইসলামের জন্য লড়াই করতে, শহিদ হতে, ইরানে মুখে মুখে এখন শোনা যায় সেকথাও।
খামেনেইয়ের পুরো নাম ছিল আয়াতোল্লাহ সৈয়দ আলি হুসেইনি খামেনেই। তিনি হুসেইনি সৈয়দ বংশের প্রতিনিধি ছিলেন। হুসেইনি সৈয়দরা এবং তাদের বংশধারা প্রফেট মহম্মদের সঙ্গে সম্পর্কিত। আয়াতোল্লাহ শিয়া মুসলমানদেরও ইমাম ছিলেন। শিয়া পণ্ডিতরা বলছেন যে, তাঁর মৃত্যুতে তাঁরা তাঁদের নেতা, মারজা আল-তাকলিদ (অনুকরণের উৎস) এবং ওয়ালি আল ফকিহ (অভিভাবক আইনজ্ঞ)-কে হারিয়েছেন।
শোকাহতরা খামেনেইয়ের হত্যাকাণ্ড এবং কারবালার যুদ্ধে ইমাম হুসেনের হত্যার মধ্যে সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছেন। তাঁদের দাবি, তেহরানে কারবালার পুনরাবৃত্তি হয়েছে। এক নারী বিক্ষোভকারী বলেন, “তিনি (খামেনেই) আমার কাছে আমার বাবা-মায়ের চেয়েও বেশি প্রিয়। এ এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁরা আমাদের ইমামকে শহিদ করেছে। তিনি ছিলেন ইসলামের সবচেয়ে বড় স্তম্ভ।” তাঁর স্বামী আজাজ রিজভি তাঁর সঙ্গেই ছিলেন। তিনি বলেন, “শোক প্রকাশ করার মতো কোনও ভাষা তাঁর কাছে নেই। খামেনেইয়ের মৃত্যুবরণ করলেও, তাঁর ধারণাকে হত্যা করা যাবে না।”
